সৌদি আরবে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশিদের মধ্যে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলারই চারজন। তাদের একজন চাচা-ভাতিজাও রয়েছেন। রয়েছেন প্রতিবেশী।
শুক্রবার (১৫ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে সৌদি আরবের আল আহসা শহরের হুফুফ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সিটি এলাকায় একটি সোফা কারখানায় এ আগুন লাগে।
এদিকে মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে নিহতদের পরিবারসহ গ্রামেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারগুলোর দাবি, মরদেহগুলো যতদ্রুত সম্ভব দেশে নিয়ে আসার। এছাড়াও তারা সৌদির ওই কোম্পানির কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ৩৫০ কিমি পূর্বে আল আহসা শহর। এতে ৯ জন অভিবাসী বাংলাদেশি ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন ও ২ জন আহত হন।
নিহতরা হলেন- বাগমারা উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের জমিরের ছেলে মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম, পাসপোর্ট নম্বর: এই৬৩২৬৮৪১, একই গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে আরিফ (ইকামা নম্বর: ২৫৩৫১৭৬৩৩৯, ওই গ্রামের জফির উদ্দিনের ছেলে রুবেল হোসাইন পাসপোর্ট নম্বর: বিসি০২৩৭০৫৫, উপজেলার বড় মাধাইমুনির কাতিলা গ্রামের আনিসুর রহমানের ছেলে ফিরুজ আলী সরদার ইই০৫৮১২৭৪। এর মধ্যে সাজেদুল ইসলাম ও আরিফ চাচা-ভাতিজা। রুবেল হোসাইন তাদের প্রতিবেশী।
বাগমারার নিহত অন্য তিন শ্রমিক সাজেদুল ইসলাম, রুবেল ও আরিফের বাড়িতেও চলছে মাতম।
আরিফের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে বাবা শাহাদাত হোসাইন বারবার অচেতন হয়ে যাচ্ছেন।
ইউপি সদস্য আবদুল করিম সরকার জানান, রুবেল প্রায় এক যুগ ধরে সৌদি আরবে থাকতেন। বছর তিনেক আগে চাচার সঙ্গে তার ভাতিজা সাজেদুল সৌদি যান। রুবেল বিবাহিত। ৫ বছরের একটি ছেলে আছে তার। তবে আরিফ অবিবাহিত ছিলেন।
মারা যাওয়া ফিরুজের বাবা আনিসুর রহমান সরদার জানান, ফিরোজ নামে এলাকার আরও একজন শ্রমিক সৌদি আরবে থাকেন। তিনিই প্রথম শ্রমিকদের মৃত্যুর খবর জানান। সেখান থেকে নিয়মিত তিনি খবর দিচ্ছেন। তবে গ্রামে বাড়িতে এসে প্রশাসনের কেউ যোগাযোগ করেনি।
যোগীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আনিসুর রহমানের দুই ছেলে। এরমধ্যে ফিরুজ থাকতেন সৌদিতে। তার ছোট ভাই ফারুক সিঙ্গাপুরে থাকেন। এলাকাবাসী হিসেবে আমাদের একটাই দাবি, ফিরুজের লাশটা যেন দ্রুত আসে।
তিনি আরও বলেন, লাশগুলো যেন দ্রুত আসে, আর পরিবারগুলো যেন ক্ষতিপূরণ পায় এ ব্যাপারে আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করি।
উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, আমি একটি কাজে শহরে ছিলাম। আমার ইউনিয়নে তিনজন মারা গেছে শুনে আমি ছুটে আসি। এই পরিবারগুলো খুবই দরিদ্র। দেশের বাইরে কাজ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের ভাগ্য সহায় হয়নি।
তিনি বলেন, পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। তারা মরদেহ দেশে নিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। আমি উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। মরদেহ দেশের আনার যেন ব্যবস্থা করে। এছাড়াও পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ যেন দেয় সে বিষয়টিও বলেছি।
বাগমারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম আবু সুফিয়ান জানান, সৌদিতে মৃত্যুর ঘটনায় বাগমারা উপজেলার চারজন আছে। পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। আমি সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে গিয়েছি। সৌদিতে যারা মারা গেছে তাদের মরদেহ নিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে পরিবারগুলো। রাজশাহী জেলা প্রশাসক আসবেন। তিনি এসে পরিবারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন।
(এইদিনএইসময়/১৫জুলাই/এলএ)

