পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মা-বাবা ভাই বোন ও আত্মীয়-স্বজনদের পছন্দে ২১-০৬-২০২০ সালে নাদিয়া সুলতানা রেশমির সাথে আমার বিবাহ হয়। দীর্ঘদিন সংসার জীবনে মহান আল্লাহ আমাকে একটি মেয়ে দান করেছেন। একে অপরের বোঝাপড়া ছিল খুবই মজবুত।
একে অপরের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল খুব ভালো। আমার জানা মতে, বিন্দু পরিমাণ মন খারাপ কখনো হয়নি। বিয়ের আগে থেকে আমি প্রাইভেট কোম্পানিতে জব করতাম। আমার মাসিক স্যালারি ছিল ২৫ হাজার টাকা মত। বিয়ের পরে আমি আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম আমার স্ত্রীর চাহিদা ছিল অনেক- উচ্চ আকাঙ্ক্ষা ও বিলাসিতা জীবনযাপন তার পছন্দ।
আমি মধ্য আয়ের মানুষ। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব তার চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেছি। তার চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে অনেক নিকট আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সম্পর্ক খারাপ করেছি। তার বিলাসী জীবনযাপনের খরচ মিটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলাম। মা-বাবা ও শশুর শাশুড়ি ও স্ত্রী রেশমির পরামর্শে আমার ছোট্ট মেয়েটিকে দেশে একা রেখে দুবাই প্রবাস জীবনে পা দিলাম। দুবাই আসার তিন মাস না যেতেই, আজ খবর শুনলাম যে আমার ছোট্ট মেয়েও স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
শ্বশুরবাড়ি ও আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীদের বাড়ি অনেক খোঁজাখুঁজির পর শুনলাম, আমার মা ও ভাবির সাত ভরির অধিক স্বর্ণ ও বাবা ও বড় ভাইয়ের জমানো আলমিরা থেকে নগদ তিন লাখ চল্লিশ হাজার টাকা ও আমি দুবাই থেকে পরশু দিন ৯০ হাজার টাকা পাঠাই- সেই টাকা সাথে নিয়ে আমাদের পার্শ্ববর্তী একই ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের পশুর ডাক্তার আবু তাহেরের ছেলে আমজাদের সাথে পালিয়ে গেছে।
কাউকে কিছু বলতেও পারলাম না। সহ্য করতে পারছি না। শ্বশুর, মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ফোনে আলাপ করলাম। সবাই প্রশাসনের সহযোগিতা চাইতে পরামর্শ দিলেন। তারপর প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে আমার বড় ভাই ৯৯৯ ফোন করল। বাবা ও শ্বশুর আমার পক্ষ হয়ে উখিয়া থানায় অভিযোগ করলেন।
আমার মেয়ে কোথায় আছে, কীভাবে আছে এখনো পর্যন্ত কোন খোঁজ খবর পাইনি। এমন অবস্থায় প্রবাসী জীবনে কীভাবে ভাল থাকি?
আমি প্রশাসন ও আমাদের জনপ্রতিনিধি ও আমার এলাকার ভাই-বোনদের, বন্ধু বান্ধবদের সহযোগিতা কামনা করছি। আমি শুধু আমার মেয়েকে ফেরত চাই।
(এইদিনএইসময়/এলএ)

