সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্ট। এর আগে রোববার ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান পাবলিক ব্রডকাস্টারও এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সম্প্রতি ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে নির্বাচনে কোনো দল বা জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠন করতে অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন।
নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোতের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৪৯টি আসন। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।
আইজেনকোতের জোট ও আরব দলগুলো একসঙ্গে হলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। তবে আইজেনকোতের জোটের অন্য কয়েকটি দলের নেতারা আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনে আগ্রহী নন। ফলে দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু বিরোধী জোটের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের আগ্রহ দেখিয়েছেন। কান পাবলিক ব্রডকাস্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের বিষয়ে কোনো সমাধান না আসায় তিনি এ উদ্যোগ নিতে চান। প্রস্তাবিত ঐক্য সরকারের গ্যারান্টর হিসেবে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ইসাক হারজগ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থাকার কথা বলা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর মিত্র বেনি বিটন সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘আমি সরাসরি সূত্রের ভিত্তিতে বলছি, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঐক্য চান। আমি নিশ্চিত করে বলছি, এটি কোনো কূটকৌশল বা নির্বাচনী কৌশল নয়। নেতানিয়াহু ঐক্য চান।’
এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির রাজনীতিবিদদের ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর আহ্বানে উগ্র ডানপন্থি নেতা বেজালেল স্মোরিচ ও ইতামার বেন গিভিরকে বাদ দিয়ে সরকার গঠনের বিষয়টি উঠে আসে।
নির্বাচনে কোনো পক্ষ এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এখন ইসরায়েলের সরকার গঠনের প্রক্রিয়া কোন দিকে যায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

