দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখে বলা সহজ হলেও তা নির্মূল করা এক কঠিন ও জটিল কর্মযজ্ঞ। সম্প্রতি জাতীয় সংসদের স্পিকার মহোদয়ের “অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর”—এমন মন্তব্যের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের ঢালাও মন্তব্যে রাষ্ট্রের সৎ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তারা গভীরভাবে মর্মাহত হচ্ছেন, যা পরবর্তীতে সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম বিভাজন তৈরি করছে।
কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, রাজনীতিবিদেরা সচরাচর নিজেদের এলাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের জোরালো পদক্ষেপ নেন না। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া কিংবা সংস্থাসমূহকে সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চর্চাও গড়ে ওঠেনি। ফলে ক্ষমতায় থাকলে দুর্নীতি চাপা পড়ে আর ক্ষমতাচ্যুত হলে মামলার হিড়িক পড়ে—এমন সংস্কৃতিই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বর্তমানে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কয়েক ধরনের কর্মকর্তা দৃশ্যমান: একশ্রেণী সরাসরি ভয়ংকর দুর্নীতিবাজ, আরেকশ্রেণী পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার রক্ষার ভয়ে নীরব থাকেন, অন্য একটি অংশ সিস্টেমেটিক দুর্নীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেন। আর যারা প্রচণ্ড সৎ ও সাহসী, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে তাদের ক্যারিয়ারই ধ্বংস হয়ে যায়। অন্ধ আনুগত্যের কারণে তৈরি হওয়া এই নির্ভরশীলতা শাসনব্যবস্থায় ‘ক্লেপ্টোক্রেটিক’ বা চোরতন্ত্রের কাঠামোকে শক্তিশালী করে। ফলে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় এক অদৃশ্য বলয় গড়ে ওঠে, যা পুরো দুর্নীতি প্রতিরোধ প্রক্রিয়াকেই মুখথুবড়ে ফেলে দেয়।

