কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ঘটনাস্থলের আলামত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের কাছেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। ধানখেতের বিভিন্ন স্থানে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্নও পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৭ অক্টোবর (বুধবার) রাতে কক্সবাজার থেকে বাসে কুমিল্লায় ফেরে ওই কিশোরী। পদুয়ার বাজার এলাকায় বাস থেকে নেমে বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষা করছিল সে। পরে একটি অটোরিকশায় ওঠার পর তার গতিবিধি আর স্বাভাবিক ছিল না বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন।
ঘটনার রাতে বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল কিশোরীটি। পরে পরিবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পায়নি। সকালে লোকেশন অনুসরণ করে ঘটনাস্থলের কাছে গিয়ে পরিবার জানতে পারে, সেখানে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।
৯ অক্টোবর (শুক্রবার) সকালে চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহত কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার আগে কিশোরীটির ওপর অন্য কোনো নির্যাতন হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন তার মা-বাবা। শুক্রবার যশোরে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

