কিশোরী তাজমিনের হত্যাকাণ্ড ঘিরে শোকের পাশাপাশি তার শৈশব ও বেড়ে ওঠার কঠিন বাস্তবতার কথাও সামনে আসছে। পরিবারের ঘনিষ্ঠ এক প্রতিবেশী দাবি করেছেন, ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বড় হয়েছে তাজমিন। তার মায়ের দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক পারিবারিক যত্ন ও স্নেহ সে পুরোপুরি পায়নি।
প্রতিবেশীর ভাষ্য, তাজমিনের মা গুরুতর মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতায় ভুগতেন। ফলে তাকে ফুফু, চাচি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছেই বেশি সময় কাটাতে হয়েছে। এ কারণে তাজমিন অতিরিক্ত সরল, আবেগপ্রবণ ও সহজে মানুষকে বিশ্বাস করত বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, তাজমিনকে ছোটবেলা থেকে বড় হতে দেখেছেন তারা। কিন্তু তার বেড়ে ওঠা ছিল এক ধরনের নীরব সংগ্রাম। যে বয়সে একটি শিশুর মায়ের স্নেহ-নিরাপত্তায় থাকার কথা, সেই সময়েও তাজমিনকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়েছে।
প্রতিবেশী আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের আগে তাকে কুমিল্লা থেকে দূরের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কী উদ্দেশ্যে তাকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল, সেটি তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
তাজমিনের বাবা-মায়ের বর্তমান অবস্থার কথাও তুলে ধরেন ওই প্রতিবেশী। বিশেষ করে অসুস্থ মায়ের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্যদের অযথা প্রশ্ন বা চাপ না দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
তার ভাষ্য, তাজমিনের মৃত্যুর বিচার শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে গেলে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
তবে প্রতিবেশীর এসব বক্তব্য ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগভিত্তিক। তাজমিনকে কোথায়, কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তই নির্ধারক হবে।

