মামলার চাপে সস্ত্রীক বাড়িছাড়া সাবেক ইউপি সদস্য, ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মোঃ ইমরান মাহমুদ, জামালপুর প্রতিনিধি
spot_img
spot_img

পারিবারিক ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক মো. ফজলুল হকের বিরুদ্ধে। মামলার ভয়ে বড় ভাই মো. দৌলত জামান ওরফে দুদু মেম্বার স্ত্রীকে নিয়ে নিজ বাড়ি ছেড়ে মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

দৌলত জামান সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য। তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনবার স্ট্রোক করার পর অসুস্থ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন বলে পরিবারের দাবি।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দৌলত জামান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। মামলার চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে গত ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

গুয়াখড়া গ্রামের বাসিন্দা জালাল উদ্দিন ওরফে জালাল দোকানদার বলেন, দৌলত জামান দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এমন মামলা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বর্তমান ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, দৌলত জামান বার্ধক্য ও স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ। ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। এমন অবস্থায় তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া দুঃখজনক।

দৌলত জামান অভিযোগ করেন, তার ছোট ভাই ফজলুল হক যমুনা সার কারখানায় বদলি হয়ে আসার পর থেকেই জমিজমা নিয়ে বিরোধ শুরু করেন। তার দাবি, গত ৩০ জুলাই ওয়ারিশভুক্ত বসতভিটার সাড়ে ৬ শতাংশ জমি হযরত আলী নামে এক ব্যক্তিকে লিখে দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ‘ক’ অঞ্চল আদালতে দণ্ডবিধির ১০৭ ও ১১৭(৩) ধারায় মামলা করা হয়। মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি তার স্ত্রী, মেয়ে এবং স্থানীয় দুই কৃষককেও আসামি করা হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক নিজে বাদী হয়ে একই আদালতে আরেকটি মামলা করেন। সেখানে তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, মেয়ের জামাই ও স্থানীয় একজন কৃষককে আসামি করা হয়। এসব মামলার পর থেকেই তিনি বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।

তবে অভিযুক্ত ফজলুল হক সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।

সর্বশেষ নিউজ