বিএফইউজে নির্বাহী কমিটির সভায় ১০ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর নির্বাহী পরিষদের সভায় অবিলম্বে নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনসহ সাংবাদিকদের ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির এই সভায় আরও দাবি জানানো হয়— সাংবাদিক সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন, সাংবাদিকদের সাপ্তাহিক দুই দিন ছুটি নির্ধারণ, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি ও অন্যান্য সাংবাদিক হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিরোধী সব কালো আইন বাতিল, সরকারি বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র প্রদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং তথ্য অধিদপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী সভা পরিচালনা করেন। এ সময় সহ-সভাপতি মুহাম্মদ খায়রুল বাশার ও একে এম মোহসীন, সহকারী মহাসচিব বাছির জামাল, ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন, এহতেশামুল হক শাওন, কোষাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, দফতর সম্পাদক মো. আবু বকর, প্রচার সম্পাদক মো. শাহজাহান সাজুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাংবাদিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু ওয়েজ বোর্ডের সুফল এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। তাই নবম ওয়েজ বোর্ড দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন, রেডিও ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য অভিন্ন ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়।
বিএফইউজে
অন্য এক প্রস্তাবে বলা হয়, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধে বিভিন্ন নিপীড়নমূলক আইন “স্থলমাইনের” মতো ছড়িয়ে আছে। এ ধরনের আইন সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে লেখালেখি ও মত প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৩২টি আইন সাংবাদিকদের স্বাধীনতাকে সীমিত করছে। সভায় এসব কালো আইন দ্রুত বাতিলের দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবি জানিয়ে বলা হয়, অধিকাংশ গণমাধ্যম নিয়মিত বেতন প্রদান করে না, ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতনও দেওয়া হয় না। জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা অনেক ক্ষেত্রে বেতন পান না, বরং উল্টো টাকা দিতে হয়। চাকরির নিরাপত্তা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, দুর্ঘটনা বীমা, চিকিৎসা বীমা এবং নারী সাংবাদিকদের জন্য কর্মস্থলে আলাদা সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও উত্থাপন করা হয়।
সভায় আরও বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো সাংবাদিকদেরও সপ্তাহে ২ দিন ছুটি নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ সাংবাদিকরা নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই সার্বক্ষণিক কাজ করেন, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সর্বশেষ নিউজ