অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নারী রেহানা পারভীনকে হত্যার পর লাশ গুম করতে আশুলিয়ায় সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দিয়ে ওপরে সবজির চারা লাগানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পর আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এমন লোমহর্ষক বিবরণ উঠে এসেছে।
২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) জানা যায়, ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা ও নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানভীর হাসান খান রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এ চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—আওলাদের দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইন।
অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুন মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে আসেন রেহানা এবং পরবর্তীতে তার স্বামীও দেশে ফেরেন। দেশ ও বিদেশে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ও পারিবারিক কলহের জেরে পরিকল্পিতভাবে রেহানাকে আশুলিয়ার নয়ারহাটে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে আসামিরা। লাশ গুম করতে সেপটিক ট্যাংকের পাশে পুঁতে রেখে সেখানে সবজি চারা লাগানো হয়। নিখোঁজের ঘটনায় রেহানার মায়ের দায়ের করা মামলায় পুলিশ পরবর্তীতে গলিত লাশ উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে স্বামী আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে গেলেও পার পাননি। তদন্ত প্রভাবিত করতে ও মামলা থেকে নাম কাটাতে বাংলাদেশের পুলিশকে ঘুসের অর্থ পাঠানোর অভিযোগে সম্প্রতি ব্রিসবেন থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। বর্তমানে তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

