সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের এক লেখায় এসব প্রশ্ন তুলে ধরেন ‘এইদিন এইসময়’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মিজান মালিক। লেখায় তিনি তাহসিফ সৌরির চাকরিচ্যুতি, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্য ও ঘটনার দিনের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মিজান মালিকের ভাষ্য, একজন সম্ভাবনাময় তরুণকে এমন একটি পদ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যেখানে পৌঁছানো অনেক তরুণের স্বপ্ন। সবকিছু পেয়েও হারানোর পর একজন মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন। এমনকি নানা নেতিবাচক পরিস্থিতির শিকার হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তবে তাহসিফের ক্ষেত্রে কী ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয় বলে তাঁর লেখায় ইঙ্গিত রয়েছে।
ঘটনাটি অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, গণমাধ্যমের উচিত ঘটনার প্রতিটি দিক অনুসরণ করা। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আড়ালে থেকে যেতে পারে এবং অন্য কোনো বিষয় অযথা বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।
তাহসিফের বন্ধু দীপের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মিজান মালিক। তাঁর লেখায় বলা হয়েছে, রিমান্ডে নেওয়া দীপ দাবি করেছেন, পুলিশ ধাওয়া করায় তাহসিফ দৌড় দিয়েছিলেন। তবে তাহসিফের বাবা এ বক্তব্য নাকচ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। একজন সদ্যসাবেক বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দৌড় দিয়েছেন—এ বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মিজান মালিক।
ঘটনার সঙ্গে এক নারীর সংশ্লিষ্টতা এবং সিসিটিভি ফুটেজে তাঁর উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ঘটনাটিকে রোমাঞ্চকর বা চাঞ্চল্যকর কাহিনিতে পরিণত না করে প্রকৃত তথ্য অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাহসিফের একজন মেয়েবন্ধু থাকলেই ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করে মূল ঘটনা আড়াল করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।
তবে মিজান মালিকের লেখায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে দীপের ভূমিকা। তাঁকে এই ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানতে চেয়েছেন, দীপ কে, তাঁর পারিবারিক পরিচয় কী এবং কার সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা। কেউ তাঁকে কোনো দায়িত্ব দিয়ে থাকতে পারেন কি না, কিংবা তাঁকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দীপের দেওয়া বক্তব্য কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনার দিনের সময়ক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মিজান মালিক। তাঁর লেখায় দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গে ছায়ার মতো ছিলেন দীপ। দীপ দাবি করেছিলেন, তিনি তাহসিফকে উত্তরার বাসার সামনে নামিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দীপ তাঁকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দীপ একা ফিরে এলেও তাহসিফ আর ফেরেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার পর দীপ তাঁর বাবার কাছে এক ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন এবং পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন মিজান মালিক। তাঁর মতে, এসব বক্তব্যের অসংগতি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া দিশা নামের এক নারীর গ্রেপ্তারের বিষয়টিও সামনে এনেছেন তিনি। ওই নারী সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া ব্যক্তি কি না, কিংবা ঘটনার সঙ্গে তাঁর প্রকৃত সংশ্লিষ্টতা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন মিজান মালিক।
লেখার শেষাংশে তিনি ‘আমার দেশ’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ হলেও একে প্রাথমিক তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচনা করে নতুন করে অনুসন্ধান চালানো যেতে পারে। এতে ঘটনার আরও অনেক অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে।
মিজান মালিকের মতে, তাহসিফ সৌরিকে ঘিরে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে দীপের ভূমিকা, সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং ঘটনাপ্রবাহের অসংগতিগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। এসব প্রশ্নের উত্তর সামনে এলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

