গাজীপুরের মিরপুর এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করার অভিযোগে রাজিব চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত চ্যানেল অনলাইনের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজিব চন্দ্র দাসের ফেসবুক পোস্টে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তির বিষয়টি উঠে আসে। এরপর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাঁকে আটক করে।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন রাজিব চন্দ্র দাস। ওই পোস্টে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পোস্টটির সূত্র ধরেই তাঁকে শনাক্ত করে আটক করা হয়।
dhakapost.com+2
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত ১১টা থেকে ১১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের প্যারাগন মাঠসংলগ্ন এলাকা থেকে রাজিবকে আটক করা হয়। তাঁর বর্তমান ঠিকানা উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর সড়কের ৫৫ নম্বর বাড়ি। স্থায়ী ঠিকানা শরীয়তপুর জেলার তুলাসার এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে।
dhakapost.com+2
সোমবার (২ নভেম্বর) উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর জানান, রাজিব চন্দ্র দাসকে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টর থেকে আটক করা হয়েছে। মিরপুরে শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পল্লবী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
dhakapost.com+1
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। রোববার সকালে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই এলাকার যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং আশপাশের সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজিব চন্দ্র দাসের পোস্টটি সামনে আসে।
Ajkerpatrika+2
মামলা পল্লবী থানায়
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা রয়েছে। সেই মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজিবকে পল্লবী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সুনির্দিষ্ট ধারা, ঘটনার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত কিংবা আদালতে উপস্থাপনের তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের সূত্র ধরে একজনকে আটকের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে ফেসবুক পোস্টে দেওয়া বক্তব্য এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তাঁর প্রকৃত ভূমিকা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

