বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ভিসানীতি নিয়েবে বেশি চিন্তিত কারা-এ নিয়ে রাজনীতি প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে চলছে নানা আলোচনা। সবার আলোচনা ছাপিয়ে রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে আগ্রহ বেশি। বৃহস্পতিবার এটি ছিল ‘টক অব দ্য কান্ট্রি। সচিবালয় ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
জানা গেছে, মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুশিয়ারিতে উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তা আতংকিতও। বিশেষ করে যাদের সন্তান দেশি না পড়ে বিদেশে পড়ছে এবং যারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে। তাদের ষচোখে-মুখে উদ্বেগ উৎকন্ঠা।
এর বাইরের আলোচনা হচ্ছে এই ভিসানীতি সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির সুযোগ হয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন যার প্রথম ধাপে। কারো ধারণার বাইরে ফলাফল এসেছে। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আজমত উল্লা খানের এ পরাজয় খুব স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। এই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ায় প্রবীণ নেতা আজমত উল্লা খান একজন স্বশিক্ষিত রাজনীতি না বুঝা নারীর কাছে হেরেছেন। যিনি আবার বিতর্কিত সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তাদের অনেকেই কাজ ফেলে রেখে কী হচ্ছে নানাজনের কাছ থেকে তা জানার চেষ্টা করেন।
অনেকে বিশ্বস্ত ব্যাচমেট ও বন্ধুদের কক্ষে ডেকে নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে মাঠ প্রশাসনে যারা কাজ করছেন ও ভবিষ্যতে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের কেউ কেউ সিনিয়রদের কাছে নানাভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ চাইছেন।
যেসব কর্মকর্তার সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন এবং সেখানে যাদের সহায়-সম্পদ ও যাতায়াত রয়েছে, এমন কর্মকর্তাই ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুশিয়ারিতে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত বলে জানা গেছে।
কর্মকর্তাদের কেউ কেউ ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুশিয়ারিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, গুটিকয়েক দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে পঙ্গু করেছেন। সরকারকে মিসগাইড করে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন।
যদিও প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব এসএম আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা নিয়ে চিন্তার কারণ দেখি না। কারণ নির্বাচনের তফসিল হওয়ার পরই নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব দপ্তর নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে যায়। তখন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে শতভাগ সততার সঙ্গে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী, ইসি, জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্রও চায় সুষ্ঠু নির্বাচন। আমরাও চাই সুষ্ঠু নির্বাচন। তা হলে চিন্তার কোনো কারণ দেখি না।’
নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ভিসানীতি প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করব না। এটা দুটি রাষ্ট্রের ব্যাপার।’ যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা নির্বাচনের জন্য সহায়ক হবে কিনা, এমন এক প্রশ্নেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পুলিশ বাহিনীর কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও অনেকে আবার সরকারের সিদ্ধান্তকেই তাদের মতামত হিসেবে ব্যক্ত করেছেন।
একজন উপপুলিশ কমিশনার বলেন, ‘আসলে আমরা রাষ্ট্রের দেওয়া দায়িত্ব পালন করি। রাষ্ট্র পরিচালনা করে সরকার। সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেভাবেই দায়িত্ব পালন করব।

