বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া মেয়েটির সাথে বাবা দেখা করতে এসেছেন। দোকানে নিয়ে গিয়ে বাবা বললেন,
কী খাবি অর্ডার দে।
মেয়েটি বললো, তুমি বল তুমি কী খাবা?
বাবাটি হেসে বললো, আমি তো জানি না এখানে কী ভালো পাওয়া যায়? তুই যা খাবি আমিও তাই খাব।
মেয়েটি দুই গ্লাস জুস নিয়ে আসলো। ক্লান্ত বাবাটির খুব ভালো লাগলো ঠান্ডা জুস খেতে।
সে বললো, বাহ খুব মজা তো। এবার তোর মাকে আনলেও এই জুস খাওয়াব।
মেয়েটি হাসলো।
বাবা মেয়েটিকে কিছুক্ষণ লক্ষ্য করে বললো, খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো করিস তো?
– হুমম করি।
– তাহলে এমন শুকিয়ে গেছিস কেন?
মেয়েটি হাসলো। বাবা এবার চাপা গলায় বললেন, তোকে যে টাকা দেই, তোর ঠিকমতো চলে তো?
– হুমম চলে।
– কোন অসুবিধা হলে আমাকে বলিস।
– হুমম বলবো।
মেয়েটির আজ খুব ভালো লাগছে।
বাবাকে ছোটবেলা থেকে ও খুব ভয় আর সমীহ করে চলেছে। বাবা কোনদিন সরাসরি ওর কোন খোঁজ খবর নেননি। মার সাথেই মন খুলে কথা বলা যেত। বাবার সাথে ছিল সবসময় এক অদৃশ্য দূরত্ব। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর এই নিয়ে দুইবার বাবা এসে দেখা করে গেলেন। আর কেমন করে যেন দূরত্বটা কমিয়ে দিলেন। কেমন মায়া করে কতো রকম কথা বলেন বাবা এখন। মেয়েটির খুব ভালো লাগে। আজ যাওয়ার সময় বাবাকে খুব জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু কেমন জানি লজ্জাও লাগছে মেয়েটির।
বাবাকে বলতে ইচ্ছা করছে, তোমাকে অনেক ভালোবাসি বাবা।

