ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১১তম প্রয়াণ দিবস পালন করা হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও সকাল থেকে হুমায়ূন পরিবার, তার ভক্ত, কবি, লেখক, নাট্যজনেরা ফুল হাতে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন নুহাশপল্লীর লিচুতলায়। নন্দিত লেখকের প্রিয় চরিত্র হলুদ পাঞ্জাবিতে হিমু এবং নীল শাড়িতে সেজে আসেন ভক্ত ও পাঠকেরা। এ সময় তারা লেখকের প্রতি অতল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা জানান।
সকালে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রিনা পারভীনসহ হুমায়ূন আহমেদের শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া আয়োজন করা হয় কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিলের। মোনাজাত পরিচালনা করেন নুহাশপল্লী মসজিদের ইমাম হাফেজ মুজিবুর রহমান।
কবর জিয়ারত শেষে মেহের আফরোজ শাওন হুমায়ূনের স্বপ্ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
শাওন বলেন, ছোট দুই সন্তান অকালে পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ব্যাপারটি আমাকে ভীষণ কষ্ট তাড়িত করে। হুমায়ূন আহমেদ কত বড়মাপের একজন লেখক, পরিচালক ও গীতিকার ছিলেন, কত বড়মাপের সৃষ্টিশীল সত্তা ছিলেন, তার শূন্যতা তার অনুপস্থিতিতে এখন অনুধাবন করা যায়।
এ সময় মেহের আফরোজ শাওন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে হুমায়ূন পরিবারের অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন নাটক ও সিনেমা প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, খুবই দুঃখজনক হলেও সত্য হুমায়ুন আহমদের বহু নাটক, সিনেমা বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউব চ্যানেলে কোন রকম চুক্তিপত্র ছাড়াই চালানো হচ্ছে। হুমায়ূন আহমদ বেঁচে থাকতেও অনুমতি নেয়নি, মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকার কারো সাথে চুক্তি বা মৌখিক অনুমতি নেয়নি। দেশের এসব প্রথম সারির ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষের সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি, উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি কিন্তু তারা এটি গ্রহণ করেননি এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ করেননি।
শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদ তার বাবাকে স্মরণ করে নেত্রকোনায় নিজ এলাকায় শহিদ স্মৃতি বিদ্যাপিঠ প্রতিষ্ঠা করেন। সেই স্বপ্নের স্কুল থেকে এখন ভালো রেজাল্ট আসছে। তার স্বপ্ন ছিল এটি কলেজ হবে, বিশ্ববিদ্যালয় হবে৷ সম্প্রতি আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে মিটিং করেছি, সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে- সেই স্কুলটি কলেজে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হয়।
নুহাশপল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল বলেন, নুহাশপল্লীতে প্রবেশ করতে প্রাপ্তবয়স্কদের গুণতে হয় ২০০ টাকা। তবে লেখকের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রবেশ ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও লেখকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে পরিবারের সদস্য, প্রকাশক ও ভক্তদের নিয়ে কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এরপর দুপুরে দুইশ এতিমকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা ফয়েজুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ। ২০১২ সালে ১৯ জুলাই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুর পর তাকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে নিজ হাতে গড়া স্বপ্নের নুহাশপল্লীর লিচুতলায় সমাহিত করা হয়।
(এইদিনএইসময়/১৯জুলাই/এলএ)

