মৃত্যু কী সুনিপুণভাবেই না ঘোরে আমাদের আশপাশে

ইশতিয়াক আহমেদ
spot_img
spot_img

সকালে বাসা থেকে বেরিয়েছি একটা মিটিংয়ের জন্য। তার আগে বাসার কেয়ারটেকারকে নিয়ে গেলাম একটা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে। কিনে তাকে দিয়ে আমি চলে যাব মিটিংয়ে। নারায়ণগঞ্জ-এর চাষাড়া মোড় পার হয়ে ফেরার সময় কেয়ারটেকারকে ছেড়ে আমি নেমে গেলাম।

ঢাকা থেকে এক ছোট ভাই আরিফ আসছে। তার সাথে সময় মেলানোর জন্য রেস্টুরেন্টে বসে চা খাওয়া আর রেস্টুরেন্টে গ্লাস দিয়ে পুরো চাষাড়ার মোড় দেখছি। যে কোনও সময়ই আমার বের হওয়ার কথা। ওই মোড় দিয়েই মিটিংয়ে যাওয়ার কথা। চায়ের বিল দিয়ে নামতে নামতে পুরো মোড়ে জটলা। মানুষে একাকার।

সামনে গিয়ে জানলাম, ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটো, প্রাইভেটকার, বাস সামনে যা ছিলো- সমানে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে গেছে। স্পটেই অটোচালকের মৃত্যু। শুধু মৃত্যু নয়, ভয়ংকর মৃত্যু। ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে গিয়ে আরেক বাসের নিচে চাপা পড়েছে সে। এমনভাবে আটকে আছে চাকার সাথে, বেরও করার উপায় নেই। চাকার নিচ থেকে চালককে বের করার বর্ণনাটা বিভৎস হওয়ায় আর লিখতে পারলাম না।

যতটুকু জানা গেলো, ফায়ার ব্রিগেডের চালক চলন্ত অবস্থাতেই স্ট্রোক করে মারা গেছেন। তাই নিয়ন্ত্রণ রাখার কেউ ছিল না গাড়িতে।

কী নিয়তি! কীভাবে আশপাশ দিয়ে মৃত্যু এসে ঘুরে গেলো। কীভাবে আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। শেষ সংবাদে জানলাম, তিনজন সম্ভবত মারা গেছে। তারা সবাই অটোতে ছিল।

এই বিভৎস মৃত্যুর চেয়ে আরও ভয়ংকর হচ্ছে আমাদের মেন্টালিটি। চাকার নিচে আটকে থাকা লাশটা এক ঝলক চোখের সামনে পড়ার পর থেকে আমার ভেতরে প্রচণ্ড অসুস্থ লাগছিল। স্থির হতে পারছিলাম না।

আমি সাধারণত মোবাইল ভিডিও বা লাইভের বিরুদ্ধে না। কারণ সাধারণ মানুষের ভিডিও বা লাইভ থেকে অনেক কিছু জানা যায়। কিন্তু সেই ভিডিওগুলোর সীমারেখা থাকা উচিত।

আজ দেখলাম আমাদের মেন্টালিটি, এক ঝাঁক মানুষ মোবাইলে সেটা ভিডিও করছে। একজন ভিডিও কল দিয়ে বাসায় দেখাচ্ছে, দেখো গাড়ির নিচে দেখা যায়? চাকার মধ্যে যে ড্রাইভার আটকে আছে দেখা যায়? দেখতে পারতেছো…

লেখক: সাংবাদিক, নাট্য পরিচালক

সর্বশেষ নিউজ