১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার

ফিরে পাওয়া গেল হুমায়ূন আহমেদের আঁকা নিখোঁজ সেই চিত্রকর্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী, সর্বোচ্চ সফল ও তুমুল জনপ্রিয় লেখক, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার ও চলচ্চিত্রকার প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের পরিবার অবশেষে ফিরে পেয়েছেন তার আঁকা নিখোঁজ সেই চিত্রকর্ম।

জনপ্রিয় এই কিংবদন্তী মৃত্যুর পূর্বে যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন থাকার সময়ে ২০১২ সালে ছেলে নিশাত হুমায়ূনের সাথে সময় কাটানোর মধ্যে এঁকেছিলেন ২৪টি চিত্রকর্ম। চিত্রকর্মগুলো পরবর্তীতে নিউইয়র্কবাসী রুমা চৌধুরী ও বিশ্বজিৎ সাহা দম্পতির অনুরোধে নিউইয়র্ক বই মেলায় প্রদর্শনের জন্য তাদের জিম্মায় দেয়া হয়। শর্ত ছিল প্রদশর্নী শেষে চিত্রকর্মগুলো নিজ দায়িত্বে ফেরত দেয়া হবে।

পরবর্তীতে প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ পরলোকগমন করলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অনেকবার যোগাযোগ করা হলে রুমা চৌধুরী ২৪টি চিত্রকর্মের মধ্যে ২০টি চিত্রকর্ম প্রয়াত লেখকের মা আয়েশা ফয়েজকে ২০১৩ সালে ফেরত দেন।

প্রায় এক যুগ পর হঠাৎ করে নিখোঁজ একটি চিত্রকর্ম কুমিল্লায় একটি প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হবে বলে জানা গেল। যা হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সদস্য, তার ভক্ত ও সবার মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি করে।

পরর্বতীতে ওই একটি নিখোঁজ চিত্রকর্ম উদ্ধারের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হন প্রয়াত লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। তিনি বাদী হয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলা আমলে নিয়ে পিবিই-কে তদন্তভার প্রদান করেন। পিবিআই কুমিল্লা হতে ওই চিত্রকর্মটি উদ্ধার করেন ও আদালতে জমা দেন।

প্রায় দুই বছর মামলার কার্যধারা চলার পর সিএমএম আদালত ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী ওই উদ্ধারকৃত তৈল চিত্রটি বাদী বরাবর ফেরত দেয়া সাপেক্ষে আসামিদের অব্যাহতি প্রদানপূর্বক আদেশ দেন।

অতপর, আদালত সংশ্লিষ্ট মালখানা ২২ আগস্ট তৈলচিত্রটি হুমায়ূন আহমেদের পরিবারকে তৈলচিত্রটি ফেরত প্রদান করেন বলে নিশ্চিত করেছেন হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ।

তৈলচিত্রটি আদালত থেকে গ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট গাজী মাহবুব আলম ও অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন।

এই প্রসঙ্গে প্রয়াত লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন গণমাধ্যমকে জানান, নিখোঁজ তৈলচিত্রটি ফিরে পেয়ে আমরা খুশি এবং আদালতের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সুরাহা হওয়ার ফলে আমরা ন্যয়বিচার পেয়েছি। তৈলচিত্রটি ফিরে পাওয়াই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। তবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা নয়। আমরা আদালত, পিবিআই-এর কর্মকর্তা ও আইজীবীদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

(এইদিনএইসময়/২৩আগস্ট/এলএ)

সর্বশেষ নিউজ