নিরাপত্তা চেয়ে মার্কিন দূতাবাসে সপরিবারে বরখাস্ত  ডিএজি এমরান

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে সপরিবারে হাজির হয়েছেন বরখাস্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া। শুক্রবার বিকাল পৌনে চারটা থেকে পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত  (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) পরিবারসহ তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যেতেই এই নাটক সাজিয়েছে।

বিকাল পৌনে চারটার দিকে বরখাস্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে স্ত্রীসহ পরিবারের চার সদস্য নিয়ে হাজির হয়েছি। বন্ধের দিন হওয়ায় নিরাপত্তাকর্মীরা ভেতরে যেতে দেননি। মূল ফটকের পাশে একটি কক্ষে আমাদের বসিয়েছেন।

বিকাল পাঁচটার দিকে তিনি জানান, এখনও তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। এ সময় তাকে অনেকটা ভীতসন্ত্রস্ত দেখা যায়।

ডিএজি এমরান নিরাপত্তা চেয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হাজিরের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে বলেন, এই জন্যই তো নাটক সাজিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চায়, বিষয়টি আমি দেখছি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ডিএজি এমরানকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।

শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়ে বিবৃতিসংক্রান্ত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন এমরান আহম্মদ। শুক্রবার সকালে এমরান আহম্মদকে বরখাস্তের বিষয়টি জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্য বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৯৭২–এর ৪ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব এমরান আহম্মদ ভূঁইয়ার নিয়োগাদেশ জনস্বার্থে বাতিলক্রমে তাকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

প্রসঙ্গত, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতির মামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে খোলাচিঠি (বিবৃতি) পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বস্থানীয় দেড় শতাধিক ব্যক্তি। তাদের মধ্যে শতাধিক নোবেলজয়ী রয়েছেন। এ বিষয়ে গত সোমবার হাইকোর্টের বর্ধিত ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, ড. ইউনূস একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তার সম্মানহানি করা হচ্ছে এবং এটি বিচারিক হয়রানি।

শতাধিক নোবেলজয়ীর ওই খোলা চিঠির বিপরীতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে, এমন দাবি করে এমরান আহম্মদ বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মরত সবাইকে এতে স্বাক্ষর করার জন্য নোটিশ করা হয়েছে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করব না।

পরদিন মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি (এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া) অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ডিএজি (ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল)। তিনি যদি সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন, তাহলে তাকে হয় পদত্যাগ করে কথা বলা উচিত অথবা অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমতি নিয়ে কথা বলা উচিত। তিনি সেটি করেননি।

মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে ড. ইউনূসের বিপক্ষে বিবৃতির কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। অন্য কোনো পক্ষকে খুশি করার জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া এটা বলেছেন। নিশ্চয়ই এখানে তার কোনো উদ্দেশ্য ছিল।

(এইদিনএইসময়/০৮সেপ্টেম্বর/এলএ)

সর্বশেষ নিউজ