অসুস্থতার খবর হাজব্যান্ডের আগে অন্য কেউ জানতেই পারেন

সোহেল রানা
spot_img
spot_img

সানজিদা আফরিন ডিএমপি সদর দপ্তরে ক্রাইম শাখায় এডিসি ক্রাইম হিসেবে কর্মরত। এডিসি হারুন কাজ করেন রমনা ক্রাইম জোনে। বস্তুত, ডিএমপির সকল ক্রাইম জোনের কার্যক্রম বিশেষ করে ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্টের বিষয়টি তদারকি ও সমন্বয় করে সদর দপ্তরের ক্রাইম শাখা যেখানে কাজ করেন এডিসি সানজিদা। সঙ্গত কারণেই উভয় শ্রেণির কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন একত্রে কাজের সুবাদে যে কোনো পেশাতেই সহকর্মীরা পরিবারের সদস্যের মতোই আপন হয়ে ওঠেন। আমরা আমাদের সুঃখ-দুঃখ অনেক সময়ই তাদের সাথে শেয়ার করি। বিপদে আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়াই। একজন সানজিদার অসুস্থতায় তার একজন সহকর্মী চিকিৎসার আয়োজনে সহযোগিতা করতেই পারেন।

তবে, প্রশ্ন ওঠে সানজিদা তার চিকিৎসায় স্বামীর সাহায্য না নিয়ে বা তার সাথে শেয়ার না করে কেনো একজন সহকর্মীর সহযোগিতা নিলেন। এই প্রশ্নে সানজিদাকে যেমন বিদ্ধ করা যায়, তেমনি তার স্বামী আজিজুলকেও বিদ্ধ করা যায়। আজিজুল হক মামুন মহামান্য রাষ্ট্রপতির এপিএস হিসেবে কর্মরত। সানজিদা টিভি সাক্ষাতকারে বলেছেন তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই তার হার্টে সমস্যা অনুভব করছিলেন। প্রশ্ন করা যায়, তার স্বামী কি তাকে এর মধ্যে ডাক্তারের কাছে নিয়েছিলেন বা তার অসুস্থতা নিরসনে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। যদি না নিয়ে থাকেন, সঙ্গতকারণেই সানজিদা তার স্বামীর উপর আস্থা হারাবেন। বিপদে পড়লে কাগজের সম্পর্ক নয়, যাকে কাছে পাই ও যার ওপর আস্থা রাখতে পারি তার কাছে যাওয়াই যৌক্তিক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সহকর্মীরা আমাদের বিপদে এগিয়ে আসেন। নিঃসন্দেহে পরিবার ব্যর্থ হলে প্রায় সময়ই সহকর্মীদেরকে আমরা পাশে পাই। সানজিদার ক্ষেত্রেও সেটা হয়ে থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত, হাসপাতাল কোনো আড্ডার জায়গা নয়। সানজিদা ও হারুন তাদের অবস্থানের কারণে যে কোনো ভাল রেস্তোরাঁ বা আয়োজন বেছে নিতে পারতেন। হাসপাতালে তারা মূলত চিকিৎসার জন্যই গিয়েছিলেন।

স্বামী-স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও কোনো কারণে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বন্ধুত্ব, ভালবাসা ও আস্থার সম্পর্ক গড়ে নাও উঠতে পারে। খোঁজ নিয়ে দেখলে এমন পরিবারের সংখ্যা চোখ কপালে উঠার মতো হতে পারে। যদি কোনো কারণে সানজিদা ও তার স্বামীর মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি না হয়ে থাকে তার দায় সানজিদার একার উপর চাপানো যায় না। সানজিদার মধ্যেও কোনো হতাশা ও কষ্ট থাকতে পারে। মানুষ কোনো কারণে একাকীত্বে ভুগলে সমর্থন ও সঙ্গ খোঁজেন। সানজিদার ক্ষেত্রেও এমন  হয়ে থাকতে পারে। তবে, হারুনের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি মোটেও প্রমাণিত নয়- সম্পর্ক থাকলেও তা একান্ত ব্যক্তিগত- তা পাবলিকলি আলোচনার কোনো বিষয় হতে পারে না।

সম্পর্ক ধীরে ধীরে খারাপ বা ভাল হয়। একদিকে ভাঙনের পাশাপাশি অপরদিকে গড়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকে। বিষয়টি এমন নয় যে, একজনকে হুট করেই ভীষণ ঘৃণা করা শুরু করলাম ও তাকে ত্যাগ করলাম এবং আরেকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রচণ্ড ভালবাসলাম ও তাকে গ্রহণ করলাম। যদি হারুনের সাথে কোনো সম্পর্ক নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান থাকেও তাতে সানজিদাকে এককভাবে দোষ দেয়া যায় না। তার দায় আজিজুলের উপরও বর্তায়।

 এ যাবত প্রাপ্ত সংবাদ ও সাক্ষ্য প্রমাণ যা বলছে তাতে সানজিদা হাসপাতালে আড্ডা দিতে নয় চিকিৎসা করাতেই গিয়েছিলেন। সানজিদা বা যে কোনো নারী যদি তার সহকর্মীর সাথে কথা বলেন বা আড্ডা দেনও তাতে আইনি বা নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ব্যত্যয় চোখে পড়ে না। এছাড়া, সানজিদা বা যে কোনো স্ত্রী তার স্বামীর বাধ্যগত সম্পত্তি নন, স্বামীও নন তেমনি। একজন স্বামী ইচ্ছা করলেই একদল গুন্ডা ভাড়া করে তার স্ত্রীর চুলের মুঠি ধরে তাকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে পারেন না। এটা করলে তা হবে ফৌজদারি অপরাধ। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে আমাদের সমাজে বিদ্যমান ত্রু‌টিপূর্ণ ও লিঙ্গ বৈষম্যমূলক সংস্কারের দৃষ্টিতে সানজিদাকে যাচাই করছি। এটিও অন্যায়।

লেখক: উপ-পুলিশ কমিশনার, মিরপুর স্টাফ কলেজ

সর্বশেষ নিউজ