হুমায়ূন আহমেদ যে ভাব-ভাবনা থেকেই “কোথাও কেউ নেই” লিখে থাকেন না কেন, আজকে বেঁচে থাকলে, এই মানুষের বুকচাপা কষ্ট দেখলে কিংবা বর্তমান বাজার পরিস্থিতি দেখলে হয়তো এ কথাই বলতেন। যেমনটি বলেছিলেন ড. হুমায়ুন আজাদ স্যারও। সব কিছু নষ্টদের দখলে। অবশ্য সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ব্যবসায়ীদের হাতে। ফলে সিন্ডিকেট একটা জায়গা করে নিয়েছে। তৈরি করে তুলেছে এক দুঃসহ পরিস্থিতি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কয়েকদিন আগে আলু, ডিম ও পেঁয়াজসহ কয়েকটি পণ্যের মূল্য বেঁধে দেয়। কিন্তু বাস্তবে তা কী কার্যকর? মধ্যবিত্ত বলেন, নিম্নমধ্যবিত্ত বলেন বা স্বল্প আয়ের মানুষ বলেন, বাজারে ঢুকলেই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হন।
মানুষের এই যে দুর্ভোগ, কষ্ট বাজারে বেঁধে দেওয়া দামে কোনো পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না; যে দাম নির্ধারণ করা হলো, তাতেও সিন্ডিকেটের সুবিধাই বেশি। কারণ আলুর কেজি ২৫-৩০ টাকা থেকে এক লাফে ৫০-৬০ টাকা, একইভাবে ডিমের দামও অস্বাভাবিকভাবে উঠিয়ে অসহায় ভোক্তার কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পর তৎসামান্য কমিয়ে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়। কিন্তু সেই তৎসামান্য দাম কমার প্রভাবও বাজারে নেই।
আজও খুচরা বাজারে আলুর কেজি বিক্রি হয় ৫০ টাকা করে। পেঁয়াজ ৮০ টাকা। তাহলে দাম কমলো কই। ভোক্তা বা সাধারণ মানুষের যত দুর্ভোগ কষ্টই হোক, সিন্ডিকেট তো অনড়।
তিনদিন আগে মুন্সিগঞ্জে এক আলুর ব্যাপারীর মুখোমুখি হন ভোক্তা অধিকারের ডিজি। ওই ব্যাপারী স্বীকার করেছেন তিনি যে আলু ২৫ টাকায় বিক্রি করেও মোটা অংকের লাভ করতে পারেন, সেই আলুর কেজি পাইকারি বিক্রি করেছেন ৩৭ টাকা। তিনি বছরে আলু বিক্রি করে লাভই করেন প্রায় কোটি টাকা। কিন্তু রাষ্ট্রকে এক টাকাও ভ্যাট- ট্যাক্স দেন না।
প্রান্তিক পর্যায়ের একজন আড়তদার ব্যবসায়ী যদি এভাবে একদিকে ভোক্তাকে নিঃস্ব করেন এবং অপরদিকে রাষ্ট্রকে বঞ্চিত করেন, গর্দান মোটা বড়গুগুলো কী করে হিসাব মেলাতে বড় বিদ্যান হওয়ার দরকার আছে বলে মনে হয় না।
আবীর আলী ২০০০ টাকায় এক হাজার টাকার পণ্য কিনে বারবার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি তুই এসে দেখে যা নিখিলেশ, এই কী মানুষজন্ম? নাকি শেষ পরোহিত-কঙ্কালের পাশা খেলা!”
কবিতার কথা ভাবতে থাকে। তার কোনো মান নেই। যেমন নেই টাকার। আছে শুধু চেপে ধরা অভিমান।
লেখক: সাংবাদিক, সৃজনশীল লেখক

