মেঘনায় ট্রলার ডুবে একই পরিবারের নিখোঁজ ৬ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

মুন্সিগঞ্জে বাল্কহেডের ধাক্কায় আবারও ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চরকিশোরগঞ্জের সীমানাবর্তী গজারিয়া ফেরিঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে গজারিয়ায় রসুলপুরের ফুলদি ও দৌলতপুর এলাকা থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভ্রমণ করতে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে করে নারায়ণগঞ্জের
চরকিশোরগঞ্জে ঘুরতে আসে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ আরও কয়েকজন। সারাদিন ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে উল্টো দিক থেকে আসা বালু বোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যায়।
এ দৃশ্য স্থানীয়রা দূর থেকে দেখতে পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে এক নারী ও শিশুসহ ৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে ট্রলারচালক রফিকুল ইসলাম (৫০) ও মফিজুল (৪০)-সহ আরও দু’জন সাঁতরে তীরে উঠে আসেন।
নিখোঁজরা হলেন- গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ফুলদী গ্রামের মফিজ উদ্দিনের স্ত্রী সুমনা আক্তার (৩৫), দুই মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (৬) ও জান্নাতুল ফেরদাউস (৩), মফিজ উদ্দিনের বড় ভাই
বোরহান উদ্দিন কাজীর মেয়ে জান্নাতুল সাবিহা (৮), রংপুর থেকে বেড়াতে আসা মফিজের ভায়রা সাব্বির (৩৬) এবং তার ছেলে ইমাদ (৭)
অন্যদিকে এদিন রাত পর্যন্ত জীবিত উদ্ধার হয়েছে মফিজুল (৪০), টিনা (০৯), তাহিয়া (১০), সাফা (০৪), নাইমা (৪৫) ও ট্রলার চালক রফিকুল ইসলাম (৫৫)।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রসাশক আবু জাফর রিপন ও পুলিশ সুপার আসলাম খান জানান, নিষেধাজ্ঞ অমান্য করে রাতের বেলায় বাল্কহেড চলাচল করার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। আর নিখোঁজদের সন্ধানে শনিবার সকাল থেকে মেঘনায় উদ্ধার অভিযান শুরু করবে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসসহ ডুবুরি দলের সদস্যরা।
এছাড়াও পুলিশ সুপার বলেন, অভিযুক্ত বাল্কহেডটি শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তবে বৈরী আবহাওয়ায় মেঘনায় প্রবল স্রোত থাকায় রাতে ব্যহত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান। ট্রলারডুবির ঘটনায় ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আর যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের তালিকা করা হয়েছে। রাত পর্যন্ত কারো মরদেহ উদ্ধার করা হয়নি।
নৌ পুলিশের নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা বলেন, শনিবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেবে নৌ পুলিশের ডুবুরি দলে সদস্যরা।
নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে অভিযান। এতে মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশের সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করবে।
ফায়ার সার্ভিসের মুন্সিগঞ্জের স্টেশন কমান্ডার মনিরুজ্জামান বলেন, ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা স্পিডবোড ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে করে দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান শুরু করেছে। তবে কারো মরদেহ উদ্ধার করা হয়নি।

(এইদিনএইসময/০৭অক্টোবর/জেএস)

সর্বশেষ নিউজ