১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার

হুমায়ূন আহমেদের ৭৫তম জন্মদিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

আজ বাংলাদেশের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৫তম জন্মবার্ষিকী।  হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। ডাকনাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

 

 হুমায়ূন আহমেদ তার কীর্তি রেখেছেন শিল্প-সাহিত্যর বেশিরভাগ শাখাতেই। ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ তথা সব ক্ষেত্রেই তার লেখনি বাংলা সাহিত্যে ভিন্নমাত্রা দিয়েছিল। এজন্যই বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যিক বলা হয় তাকে। বাংলাদেশের শোবিজেরও একজন অগ্রগামী দিশারী ছিলেন তিনি।

শিল্প ও সাহিত্যের সব শাখাতেই সফল এই ব্যক্তিত্বের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশ হয় ১৯৭২ সালে। এরপর তার রচিত তিনশতাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ‘আগুনের পরশমণি’ ছবিটি পরিচালনার মধ্য দিয়ে ১৯৯৪ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

এরপর একে একে তার নির্মাণে মুক্তি পায় ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ (২০০০) ও ‘দুই দুয়ারী’ (২০০১) ‘চন্দ্রকথা’ (২০০৩), ‘শ্যামল ছায়া’ (২০০৪), ‘৯ নম্বর বিপদ সংকেত’ (২০০৬) ‘আমার আছে জল’ (২০০৮) ও ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ (২০১২)।

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। বিশেষ করে তার সৃষ্টি হিমু ও মিসির আলী চরিত্রে আজও বুদ হয়ে আছে পাঠক ও ভক্তরা।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন অভিনয়, নৃত্যের পাশাপাশি পরিচালক হিসেবেও প্রশংসিত। তার বড় ছেলে নুহাশ হুমায়ূনও সম্প্রতি নাটক নির্মাণে নাম লিখিয়েছেন।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে উদযাপিত হবে লেখকের জন্মদিন। এছাড়া বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে লেখককে নিবেদিত নাটকসহ নানা অনুষ্ঠানমালা। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। হুমায়ূন নেই কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন লাখো পাঠকের হৃদয়ে।

হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মরণব্যাধি ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে যান। সেখানে ২০১২ সালের জুলাই মাসের ১৬ তারিখ তিনি চলে যান লাইফ সাপোর্টে। সে অবস্থাতেই ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিউ ইয়র্ক থেকে ২০১২ সালের ২৩ জুন দেশে ফিরিয়ে আনা হয় হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ। ২৪ জুন তাকে সমাহিত করা হয় তার গড়ে তোলা নন্দনকানন নুহাশ পল্লির লিচুতলায়।

 

 

 

(এইদিনএইসময় /জাকারিয়া শুভ)

 

সর্বশেষ নিউজ