১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার

৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে দিয়ে থালাবাসন মাজানোর অভিযোগ

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
spot_img
spot_img

শিশুশিক্ষার্থীটির বয়স মাত্র ৬ বছর। পড়ে কিন্ডারগার্টেনে। ছোট্ট মেয়েশিশুকেই তিন সপ্তাহ ধরে থালাবাসন মাজতে বাধ্য করেছে স্কুল। এমনই গুরুতর অভিযোগ তার বাবার। এই নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিযোগ দায়ের করার পর, মেয়েকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি বাবার। ঘটনাটি চীনে ঘটেছে। দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে একটি ভিডিও আপলোড করে গুরুতর ওই অভিযোগ করেছেন শিশুশিক্ষার্থীর বাবা ইউ। উত্তর চীনের টংলিয়া থেকে ভিডিও আপলোড করেছিলেন। তিনি দাবি করেছেন, ক্লাসের ২৫ জন শিশুর সবাই টানা ২০ দিন থালাবাসন ধোয়ার কাজ করেছে।

দেশটির সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক খবরে বলা হয়েছে, টংলিয়া এলাকার একটি কিন্ডারগার্টেনে শিশুশিক্ষার্থীদের মিডডে মিল দেওয়া হয়। এই খাওয়ার পর প্রতিদিন ২৫ শিশুর খাওয়ার বাসন-প্লেট ধুতে হতো শিশুটিকে। ২১ দিন ধরে এ কাজ করলেও প্রথমে বিষয়টি জানতেই পারেননি ইউয়ের পরিবার। মেয়ে প্রতিদিন ঘামে ভিজে বাড়ি ফিরত। স্কুল থেকে ফিরে অত্যন্ত ক্লান্ত থাকত। একদিন মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে পড়েছে সে। শিশুশিক্ষার্থীটি বাবাকে জানায়, সে আর কিন্ডারগার্টেনে পড়তে যেতে চায় না। বাবা-মা অবাক হয়ে জানতে চায়, কেন স্কুলে যেতে চায় না, কিছু কি ঘটেছে? খুদে শিক্ষার্থীটি জানায়, স্কুলে প্রতিদিন থালাবাসন মাজতে হয়। এতে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। অন্য শিশুরা যখন খেলাধুলা করে, তখন তাকে একা একা থালাবাটি পরিষ্কার করতে হয়।

শিশুকে স্কুলে থালাবাসন পরিষ্কারের কথা জানতে পেরে চমকে যান ইউ। এই কিন্ডারগার্টেনে গিয়ে এ বিষয়ে অভিযোগ জানান তিনি। মেয়ের শিক্ষক ইউকে উল্টো কথা জানায়। শিক্ষক বলেন, সে খুব বেশি প্রাণবন্ত। তাকে শান্ত রাখা যায় না। এ জন্য সে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ওই শিক্ষক আরও জানান, নিয়মিত থালাবাটি পরিষ্কারের ফলে তাঁর শিশুকন্যা মানসিক এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী হবে। কিন্ডারগার্টেনের ওই শিক্ষকের ব্যাখ্যা মনঃপূত হয়নি ইউয়ের। তিনি স্কুলের কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর থেকেই স্কুলে তাঁর মেয়েকে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। এমনকি শেষ পর্যন্ত তাঁকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কারের বিষয়টি আগে থেকে ওই শিশুশিক্ষার্থীর অভিভাবককে জানানো হয়নি। দেওয়া হয়নি আগে কোনো নোটিশও। শিশুটির দাদা-দাদি গিয়েছিলেন নাতনিকে স্কুল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসতে। সেই সময় জানানো হয়, নাতনিকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। ইউ জানান, এ ঘটনার পর কিন্ডারগার্টেনের কোনো শিক্ষক তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। কেন তাঁর মেয়েকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

এদিকে কিন্ডারগার্টেন কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই ইউয়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কখনোই শিশুদের প্রতি কোনো অনুপযুক্ত আচরণ করা হয়নি। কোনো শিক্ষার্থী যদি স্কুলের নিয়ম না মানে, তাহলে তাকে বহিষ্কারের অধিকার আছে স্কুলের। স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দেখবে।

সর্বশেষ নিউজ