১৭ এপ্রিল ২০২৪, বুধবার

সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জলমহাল নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর সমবায় কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে জলমহাল ইজারার অনলাইন আবেদনে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

জলমহাল ইজারার আবেদন অনলাইনে করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় মৎস্যজীবি সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে পরে আর আবেদন করেননি তিনি। এছাড়া লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে নির্দিষ্ট একটি সমিতিকে ইজারা পাইয়ে দিতে প্রতিদ্বন্দ্বী সমিতিগুলোর আবেদন জমা দেননি তিনি। ফলে একক আবেদনকারী হিসেবে ওই সমিতি জলমহাল পেয়ে যায়।

স্থানীয় কয়েকটি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্যরা তার বিরুদ্ধে এমন প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন।

এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে প্রতারণার শিকার বন্ধন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি হান্নান মিয়া জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি এ অভিযোগ দেন।

বৃহস্পতিবার খালিয়াজুরীর ইউএনও রুয়েল সাংমা জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ এখনো হাতে পাইনি। অভিযোগ যেহেতু সমবায় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাই বিষয়টি সমবায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে ভালো হবে।

স্থানীয় মৎস্যজীবি সমিতির সদস্যরা জানায়, এবার প্রথম অনলাইনে জলমহাল আবেদনের নিয়ম চালু হয়। তাই সমবায় কর্মকর্তা আজিজুর রহমান সব সমিতির লোকজনকে বলে এটা কঠিন কাজ আমি যথাযথভাবে আবেদন করে দেন। এসব বলে আবেদন প্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা করে নেন। পরে লাখ টাকা কনট্রাকে নির্দিষ্ট একটি সমিতির আবেদন করে বাকিগুলো ফেলে দেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ২০ একরের নিচে ১৩টি জলমহাল ইজারার বিজ্ঞপ্তি দেয় উপজেলা প্রশাসন। এতে প্রায় ৩০টি মৎস্যজীবি সমিতি আবেদন করে। যদিও আরও অনেক বেশি সমিতি রয়েছে। বাকি সমিতিগুলো আজিজুর রহমানের প্রতারণার কারণে আবেদন করতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বন্ধন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি হান্নান মিয়ার অভিযোগ, এবার জলমহাল ইজারার আবেদন অনলাইনে করতে হয়েছে। সমবায় কর্মকর্তা আজিজুর রহমান সব সমিতির লোকজনকে বলেছে অনলাইনে আবেদন কঠিন। আপনারা এটা পারবেন না। অনেক ঝামেলা আছে। তাই আবেদন প্রতি ১০ হাজার টাকা নিয়ে যথাযথ নিয়মে সেটি করে দেওয়ার কথা বলেন। সরল বিশ্বাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ১০ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেই। অন্য সমিতির লোকজনও এভাবেই টাকা ও কাগজপত্র তার হাতে দেয়। তিনি নিক বাড়ি কেন্দুয়াতে নিয়ে গিয়ে সেখানে বসে অনলাইনে আবেদন করবেন বলে জানান। একেকটা জলমহালের বিপরীতে তিন থেকে চারটা করে সমিতি আবেদন করে। কিন্তু তিনি গোপনে যোগাযোগ করে লাখ টাকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী সমিতি সবগুলো সরিয়ে নির্দিষ্ট একটি সমিতির আবেদন করেছেন। ফলে একক আবেদনকারী হিসেবে সেই সমিতি জলমহাল পেয়েছে। আমাদের অনেকের কাগজপত্র নিয়েও তিনি আবেদন করেননি।

তিনি আরও বলেন, আবেদনের শেষ সময় চলে যাচ্ছে আমরা এসএমএস পাচ্ছিলাম না। আজিজুরের সাথে এ বিষয়ে জানতে গেলে তিনি ভরসা দিয়ে রেখেছেন। এমনকি সময় পার হওয়ার পরও তিনি বলেছেন সমস্যা নাই হার্ড কপি জমা দিলেও হবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। পরে জানলাম সবই তার প্রতারণার চক ছিল।

স্থানীয় একটি মৎস্যজীবি সমিতির সদস্য আরিফ জানায়, সমবায় কর্মকর্তা আজিজুর রহমান একইভাবে আমার সাথেও প্রতারণা করেছে। তার কারণে আমি জলমহাল হারালাম। আমি এর বিচার চাই।

হাওর বিলাস মৎস্যজীবি সমিতির মো. শিপন মিয়া জানায়, আমার কাছ থেকে টাকা আর কাগজপত্র নিয়েও অনলাইনে আবেদন করেনি আজিজুর। একইরকম প্রতারণা অনেকের সাথে করেছেন তিনি।

বাজারের একটি দোকান থেকে ২০০ টাকা খরচ করে অন্য একটি জলমহালের জন্য আবেদন করেছিলাম। সেটিতে আবেদন নিশ্চিতের এসএমএস পেয়েছি। কিন্তু তার আবেদনে নিশ্চিতের এসএমএস পাইনি। পরে জেনেছি অন্য সমিতির কাছ থেকে লাখ টাকা নিয়ে এমন প্রতারণা করেছেন তিনি।

ইউএনও রুয়েল সাংমা জানান, অভিযোগটি দেখে তিনি এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করবেন।

সর্বশেষ নিউজ