১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার

নির্লোভ, নীতিবান এক রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাকে নিয়ে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের লেখা

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বহু সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী মরহুম শাহ আবদুল হান্নান সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেছেন রাষ্ট্রের সাবেক সচিব ও বর্তমান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

“উত্তর গোড়ান নিবাসী সচিবের কথা” শিরোনামে লেখা স্মৃতিচারণায় ফাওজুল কবির খান তুলে ধরেন শাহ আবদুল হান্নানের অনাড়ম্বর জীবন, আর্থিক সততা ও অনন্য নৈতিক দৃঢ়তা। তিনি জানান, হান্নান সাহেব তাঁর পুরো কর্মজীবনে কখনোই রাজউকের ফ্ল্যাট বা প্লট নেননি, এমনকি সরকারি সফরের সুযোগও নিজে থেকে নিতে চাইতেন না।

তিনি লিখেছেন, শাহ আবদুল হান্নানের কিছুই ছিল না। অথচ তিনি শুল্ক ও আবগারি বিভাগের কালেক্টর, দুর্নীতি দমন ব্যুরোর মহাপরিচালক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য এবং চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও ব্যাংকিং বিভাগের সচিব ছিলেন। তাঁর শেষ ঠাঁই ছিল পিতা থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভাইবোনদের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় উত্তর গোড়ানে গড়ে তোলা বাড়ি। কয়েক মাস আগে করোনা থেকে আরোগ্য লাভ করলেও গতকাল বুধবার(২৯.০৪.২৫) তিনি ইন্তেকাল করেন।

ফাওজুল কবির খানের লেখায় উঠে আসে হান্নান সাহেবের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক, একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং তাঁর ধর্মনিষ্ঠ জীবনযাপন। বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে কীভাবে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে তাঁর অনাগ্রহ ছিল প্রবল।

তিনি আরও বলেন,আর্থিক, নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সততার যে নজির শাহ আবদুল হান্নান রেখে গেছেন, তা বিরল। আমি ক্ষণজন্মা এই মানুষটির আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। তাঁদের সন্তান ইমু ও ফয়সালের প্রতি সমবেদনা। তাদের বলি, এমন একজন মানুষকে পিতা হিসেবে পাওয়া যেকোনো সন্তানের জন্য একটি বিরল সম্মান। আর নিজেদের বলি, এমন একজন সরকারি কর্মকর্তা পাওয়া একটি জাতির জন্য ভাগ্যের বিষয়।
শাহ আবদুল হান্নানের মতো সৎ, মেধাবী ও নীতিবান সরকারি কর্মকর্তা পাওয়া একটি জাতির জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং হান্নান দম্পতির সন্তানদের প্রতি সমবেদনা জানান।

(এইদিন এইসময়/জেএস)

সর্বশেষ নিউজ