সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে প্রেস সচিবের বিস্ফোরক স্মৃতিচারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাভিত্তিক পোস্ট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদের আবির্ভাব ঘটে এক ভয়ংকর রাজনৈতিক দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে। অপহরণ, নির্যাতন এবং সীমান্তে ফেলে দেওয়ার আগেই তিনি গোপনে দলের হয়ে কথা বলছিলেন।

শফিকুল আলম জানান, সে সময় বিএনপি চরম সংকট পার করছিল। খালেদা জিয়াকে গুলশানের কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছিল, শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন কিংবা ধরা পড়েছিলেন। তিনি এবং এএফপির দক্ষিণ এশিয়া প্রধান ক্রিস অটন, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসনের সঙ্গে খালেদা জিয়ার অফিসে গোপনে প্রবেশ করে সাক্ষাৎকার নেন। তাদের সাংবাদিক পরিচয় না জেনে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী ভেবেছিল, তারা হাইকমিশনের লোক।

প্রতিদিনের মতো তারা সালাহউদ্দিন আহমেদের বিবৃতি পেতেন, যা ছিল ধারালো, সুগঠিত ও সরাসরি বার্তাবাহী। রিজভী আহমেদের আবেগপ্রবণ রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করলেও, শফিকুল আলম লেখেন যে রিজভীর বিবৃতিগুলো তুলনামূলকভাবে জটিল ছিল। আর সালাহউদ্দিনের লেখা বিবৃতিগুলো ছিল সাহসী, আক্রমণাত্মক এবং ক্ষমতার কেন্দ্রকে সোজাসাপটা চ্যালেঞ্জ জানানো।

তিনি দাবি করেন, এই ভাষাগত আগ্রাসী অবস্থানেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তার বিরুদ্ধে ধরপাকড়ের নির্দেশ দেন। এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের শুরুতে সালাহউদ্দিন অপহৃত হন।

তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে শফিকুল আলম লেখেন, এই সংগ্রামী নারী যেভাবে স্বামীর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার থেকেছেন, তা ছিল বিরল দৃষ্টান্ত। এই লড়াই, আন্তর্জাতিক চাপ এবং মিডিয়ার মনোযোগ হয়তো তাকে সীমান্ত পার করে শিলং পাঠানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সবশেষে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আজকের অনেক তরুণ বিএনপি কর্মী সেই কঠিন সময়ের ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস ভুলে গেছেন। সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তার ভূমিকাকে অস্বীকার করা হচ্ছে, অথচ সেই সময়ই ছিল এক ভয়ংকর স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিএনপির সাহসী লড়াইয়ের নিদর্শন।

সর্বশেষ নিউজ