১ মে ২০২৬, শুক্রবার

গ্যাং অব ফোর’—এর ছায়া হাসিনার শেষ মুহূর্তের বিভ্রান্তি ও পদত্যাগের নাটকীয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

রাজধানীর চানখাঁরপুলে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এই অভিযোগে উঠে এসেছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে চারজন শীর্ষ নেতার প্রভাব, যাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে কথিত ‘গ্যাং অব ফোর’—যাদের পরামর্শে সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানাভাবে বিভ্রান্ত হন এবং সহিংস দমননীতি গ্রহণ করেন।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট রাতের গোপন বৈঠকে ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান এবং আসাদুজ্জামান খান কামালের প্ররোচনায় শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন এবং আন্দোলন দমনেই জোর দেন। এই চতুষ্টয়কেই ‘গ্যাং অব ফোর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, সেই রাতে শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানাও তাকে পদত্যাগে অনুরোধ করেছিলেন। এমনকি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা হলে তিনি কিছুটা নরম হন।

তবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, ৫ আগস্ট পদত্যাগের আগে শেখ হাসিনা একাধিক বৈঠকে “যা হওয়ার হোক, আমি ক্ষমতা ছাড়ব না”—এমন অবস্থানে অনড় ছিলেন। এমনকি গুলি চালিয়ে আন্দোলন দমন করার জন্য সামরিক বাহিনীর কাছে নির্দেশ দিতে চেয়েছিলেন। তারেক সিদ্দিকীর মতো ব্যক্তিরাও সেই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানান।

এক পর্যায়ে গণভবনে প্রবেশ করা এক অপরিচিত ব্যক্তির উপস্থিতি এবং সামরিক কর্মকর্তাদের চাপে শেখ হাসিনা তার কৌশল পাল্টাতে বাধ্য হন। ৫ আগস্ট দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র দেন এবং দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান।

চানখাঁরপুল গণহত্যা প্রসঙ্গে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়। এতে নিহত হন স্কুলছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদসহ আরও কয়েকজন। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও কমিশনার হাবিবুর রহমান, যারা ছাত্র—জনতার ওপর গুলির নির্দেশ দেন।

এছাড়া ১৪ জুলাই রাতে ছাত্রদের ওপর চালানো আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর হামলার জন্যও সরাসরি দায়ী করা হয়েছে ক্ষমতাসীনদের।

এই মামলাটি বর্তমান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ক্ষমতার বলয়ে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার কার্যক্রম শুরু হলো।

 

সর্বশেষ নিউজ