আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের ব্যাংক খাতে যে ভয়াবহ লুটপাট হয়েছিল, তার নেতিবাচক প্রভাব এখন আরও গভীরভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লুটপাট করা অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ায় ব্যাংক খাতে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ তারল্য সংকট, বেড়েছে খেলাপি ঋণ, কমেছে আয় ও মূলধন।
ব্যাংক খাতের অবস্থা সম্পর্কে সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন,
“আওয়ামী লীগের সময় এমন লুটপাট হয়েছে, যা পৃথিবীতেও নজিরবিহীন। এই টাকাগুলো বিদেশে পাচার হয়েছে। এখন সেগুলো খেলাপি হয়ে ব্যাংক খাতকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।”উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান:
খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০%, যা শিগগিরই ৩০—৩৫% এ পৌঁছাতে পারে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতের মোট সম্পদ ০.৮৭% কমে দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ কোটি টাকায়।
ব্যাংকের আয় কমেছে ১০০ টাকায় মাত্র ৩৪ পয়সা (আগে ছিল ৫৯ পয়সা)।গত প্রান্তিকে ১১টি ব্যাংক কোনো আয়ই করতে পারেনি, এবং ২০টির আয় ছিল মাত্র ৫% এর নিচে।
প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে ৮.৭৬%, আর মূলধন রাখার হার কমে এসেছে মাত্র ৪.১৩%—এ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ৩ ঋণগ্রহীতার খেলাপি হয়ে যাওয়া মানে পুরো ব্যাংক হুমকিতে পড়া। কারণ, মূলধন পর্যাপ্ততা ভয়ানকভাবে হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি, ৮২% খেলাপি ঋণ এখন ‘আদায় অযোগ্য’ বা কু—ঋণ। এই ঋণগুলো আদায় করা প্রায় অসম্ভব, ফলে বাড়ছে প্রভিশনের চাপ এবং মূলধনের ঘাটতি।
প্রতিবেদনে ব্যাংক খাতকে পুনরুদ্ধারের জন্য বিস্তৃত সংস্কার কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, যেমন:
নতুন করে টাকা পাচার ও জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
গ্রাহকের আস্থা কিছুটা ফিরেছে, আমানতের হার বেড়েছে।
তবে ব্যাংক খাতকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড় করাতে হলে দুর্নীতির মূল কারণ নির্মূল, স্বচ্ছ নেতৃত্ব, এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

