বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে এখনো হচ্ছে একের পর এক মিথ্যা মামলা। গত জুলাই আগস্ট আন্দোলনকে পুঁজি করে চলছে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র। চলছে বিভিন্ন ধরনের অরাজকতা।
মামলা নেয়ার সময় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যাচাই বাছাই হচ্ছে না বাদির দেয়া তথ্য ও তার পরিচয়। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বেপরোওয়া হয়ে উঠেছে মামলাবাজ প্রতারক চক্রগুলো।
এমনি একটি চক্রের সন্ধান মিলেছেএকটি অনুসন্ধানে। জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুর্থানে যাত্রাবাড়ি যেন ছিল এক রণক্ষেত্র। এই এলাকাতেই শতাধিক হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে ১২৫টির মত। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে নিহতের নিকট আত্মীয় ছাড়া মামলা পরিচালনা করছে অন্য কেউ।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাদির উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন।
এই যেমন ৫আগস্ট যাত্রাবাড়িতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ১৮বছরের মোহাম্মদ হাসান। যে ঘটনায় কোনো মামলা করেনি ভোলায় থাকা তার পরিবার। তবে গেল ২৯ এপ্রিল শাওন নামের এক ব্যক্তি হাসানের মামা পরিচয়ে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। যেখানে আসামি করা হয় ২৩১জনকে।
অনুসন্ধানে দেখা যায় এই শাওনকে চিনেই না হাসানের নিকটাত্মীয়দের কেউই। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে হাসানের বাবা জানান তিনি কিছুই জানেন না।তিনি বলেন শাওন নামে আমার কোন সালা নাই। আদালতে শাওনের দাবি ছিল তিনিও জুলাই অভ্যর্থানে আহত যোদ্ধা। ডান হাতে সেলাইলেগেছে ২১টি।
শাওন তার আহত হওয়ার ঘটনার সাক্ষ্য হিসেবে জমাও দেন যাত্রাবাড়ির এক চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র।ঘসামাজা করা সেই প্রেসক্রিপশনে দেখা যায় সেলাই প্রয়োজন হয়েছে ছয়টি।
সত্যের খোঁজে টিপু সুলতান নামের সেই চিকিৎসকের সাথে দেখা করে জানা যায় প্রথমে শাওনকে চিনেন বললেও পরে সুর পাল্টান। এরপর দেয়া শুরু করেন একের পর এক অসংলগ্ন তথ্য।
এবার মামলা নথি থেকে পাওয়া শাওনের ফোন নাম্বারে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় দুইদিন পর তার সাথে দেখা হয় ভাটারাই। কথাবার্তার এক পর্যায়ে স্বীকার করেন তিনি যে আসলেই চিনেন না হাসানকে।
মেডিকেল সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে এভ্রিথিং কাগজ সব বানানো বলে স্বীকার করেন শাওন। একসময় শাওন জানান সানি নামের এক ব্যক্তির প্ররোচনাতেই তিনি মামলা করেছেন। যিনি ব্যবহার করছেন ভারতীয় এক মোবাইল নাম্বার। সেই নাম্বারে তার সাথে যোগাযোগ করে শাওন। ওপাশ থেকে শাওনকে আশ্বস্ত করা হয় কদিন গেলেই চুকে যাবে সব ঝামেলা। সানির সাথে এবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে পরিচয় জানার পর আর কথা বলেনি সে।
উল্লেখ্য জুলাই আগস্টের শহীদ পরিবারগুলো তাদের আকাংক্ষিত বিচার তো পাচ্ছেই না বরং মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ নিরঅপরাধী মানুষদের হয়রানি করা হচ্ছে অনেক সময়।তাই বিষয়টি নিয়ে সঠিক অনুসন্ধানের ব্যাবস্থার মাধ্যমে সমাধান করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞজন।

