১৬ জুন ২০২৫, বাংলাদেশ বিমানের পাইলট এনাম তালুকদার ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইট নিয়ে যাচ্ছিলেন সৌদি আরবের রিয়াদে।যাত্রাপথে মাঝ আকাশে তিনি ইরান থেকে ইসরায়েলে ছোঁড়া মিসাইল উড়ে যেতে দেখেন।
ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিজেই বর্ণনা করেন পাইলট এন,তিনি বলেন,সময়টা ছিল রাত। তখন ঘড়িতে বাজে ২টা ১৫ মিনিট। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইটটি নিয়ে উড়াল দিলাম আমি আর আমার কো-পাইলট রাপসান রিয়াদ।
সেদিন ছিল আকাশ শান্ত, আবহাওয়া অনুকূলে। ভারত, ওমান আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমা পেরিয়ে যখন বাহরাইনের দিগন্ত ছুঁই, ঘড়ির কাঁটায় তখন স্থানীয় সময় প্রায় ভোর ৫টা।
৪০,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে পৃথিবীকে দেখার অনুভূতি সবসময়ই অসাধারণ। কিন্তু সেদিন সেই অনুভূতি ম্লান হয়ে গেল এক আকস্মিক, ভয়ংকর দৃশ্যের কাছে।
পারস্য উপসাগরের কাছে আসা মাত্রই ইরানের আকাশে হঠাৎ তীব্র আলো।ঝলকানি দেখা যায়।পাইলট এনাম সেই মুহুর্তটির কথাগুলো এভবে বলেন,আমাদের ফ্লাইটটি তখন পারস্য উপসাগরের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। ডান দিকে ছিল ইরানের সীমান্ত, আর বাঁ দিকে খানিকটা পেছনে বাহরাইন। দিগন্তে তখনো সূর্য ওঠেনি, তবে পূর্ব আকাশে হালকা আলো ফুটতে শুরু করেছে।ঠিক তখনই, ইরানের আকাশে হঠাৎ তীব্র আলোর ঝলকানি! প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো সামরিক মহড়া চলছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখতে পেলাম, একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে তীব্র গতিতে ছুটে চলেছে।
ওই মুহুর্তের কথা শেয়ার করেন পাইলট এনাম,তিনি বলেন আমার কো-পাইলটও বিস্মিত। আমরা দ্রুত ফ্লাইটের রুট বদলানোর কথা ভাবতে শুরু করি। এক মুহূর্তেই মনে প্রশ্ন জাগলো, যদি একটি ক্ষেপণাস্ত্রও দিকভ্রান্ত হয়ে আমাদের দিকে ছুটে আসে? ভাবতেই গা শিউরে উঠল।
পাইলট জীবনে ঝুঁকি নেয়ার অনেক অভিজ্ঞতা থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়াছুড়ির মাঝে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি খুব ঝুঁকিযুক্ত ছিল।পাইলট হিসেবে বহু ঝুঁকি নিতে হয়েছে।কিন্তু আকাশের বুক চিরে ছুটে চলা আগুনের তিরের এমন দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা আমার আগে হয়নি।
পাইলট এনাম বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,দ্রুত বিমানটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে গেলাম আমরা। অবশেষে গন্তব্য রিয়াদে নিরাপদে অবতরণ করলাম।অতঃপর মাটিতে নেমে ফোন চালু করতেই খবরের বন্যা “Iran launches massive missile strike on Israel.”
পাইলট এনাম এই বিষয়টা নিয়ে পর্যালোচনা করে বলেন,এটি একটি সম্ভাব্য যুদ্ধের সূচনা, যা হয়তো শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না-ও থাকতে পারে। পাল্টাপাল্টি এই হামলা গোটা অঞ্চলের শান্তির জন্য এক বিরাট হুমকি। তবে সেদিন আমি শুধু একজন পাইলট ছিলাম না, আমি ছিলাম ইতিহাসের সাক্ষী, আকাশ থেকে যুদ্ধের সূচনার প্রত্যক্ষদর্শী।
সেদিনের হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল দূরপাল্লার। এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাধারণত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরের উচ্চতায় যায়। অর্থাৎ শত শত কিলোমিটার ওপরে। এগুলো মহাকাশের নিচের অংশ দিয়ে (suborbital trajectory) বেশ উঁচুতে ওঠে, তারপর আবার পৃথিবীতে প্রবেশ করে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হয়তো প্রায় ২০০–৫০০ কিমি বা তারও বেশি উচ্চতা অতিক্রম করেছে, শূন্য বায়ুমণ্ডলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে তারপর আবার পৃথিবীর দিকে প্রবেশ করে।
এগুলো শুধুই প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রদর্শনী নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তাও বহন করে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এখন আর কেবল ট্রানজিট করিডোর নয়, এটি হয়ে উঠছে সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র।
আকাশের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে পাইলট এনাম বলে।,যাত্রীরা সেদিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমরা নিরাপদে ফ্লাইট ল্যান্ড করাতে সক্ষম হয়েছিলাম। কিন্তু মাথায় বারবার ঘুরছে, এই আকাশ পথ কতটা নিরাপদ?কবে বন্ধ হবে এই সব যুদ্ধ? পৃথিবীর সাধারণ মানুষ শান্তি চায়।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্য সরাসরি যুদ্ধের শুরু হয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় যুদ্ধাস্ত্রের ছোড়াছুড়ি চলছে।এই যুদ্ধ পুরো পৃথিবীর মানুষের জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি করবে বলে বিশিষ্টজনেরা মতামত দিয়েছেন।

