গাজাবাসীর ক্ষোভ ইরান ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতে যখন বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা, তখন ভিন্ন সুরে কথা বলছেন গাজার সাধারণ মানুষ। ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা, এই সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আরও একবার সরে যেতে পারে তাদের দিক থেকে—যেখানে প্রায় ২০ মাস ধরে চলছে এক দীর্ঘ ও বিপর্যয়কর মানবিক সংকট।
ইসরায়েলি হামলায় স্ত্রী, সন্তান ও ভাই হারানো গাজাবাসী হাসান ওমর তালবা ক্ষোভের সুরে বলেন,
ইরান কখনো আমাদের জন্য একটি স্কুল বা হাসপাতাল বানায়নি, এক ট্রাক সাহায্যও পাঠায়নি। তারা শুধু হামাসকে রকেট দিয়েছে। আর এতে আমরা আরও গভীর সংকটে পড়েছি।”
তবুও, একইসঙ্গে তিনি ইসরায়েলের ওপর হামলার ন্যায্যতা অনুভব করেন,
“ইসরায়েলের সাধারণ মানুষ অন্তত একরাতের জন্য হলেও বুঝুক—আমরা কী যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছি।”
গাজার আরেক বাসিন্দা, পাঁচ সন্তানের জনক আলা সালেহ বলেন,
“এখানে যুদ্ধ থামেনি। প্রতিদিনই মৃত্যু, ক্ষুধা আর বাস্তুচ্যুতি আমাদের জীবনের অংশ। কিন্তু এখন মিডিয়া ও বিশ্ব গাজার খোঁজও নিচ্ছে না। সবাই চোখ রেখেছে ইরান—ইসরায়েল উত্তেজনায়।”
গাজায় প্রতিদিন ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হচ্ছে শিশুসহ সাধারণ মানুষ। ধ্বংসস্তূপ আর মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে গোটা উপত্যকা। এমন প্রেক্ষাপটে অনেক ফিলিস্তিনি একদিকে যেমন ইসরায়েলের ক্ষয়ক্ষতিকে ন্যায়সঙ্গত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন, তেমনি তারা হতাশ যে সেই আঘাতের আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে তাদের নিজেদের দীর্ঘ ও ভয়াবহ ট্র্যাজেডি।
“আমরা কেবল চাই, বিশ্ব যেন ভুলে না যায়—গাজা এখনও রক্তে রাঙা,” বলেন এক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক, যার নাম সংবাদসূত্রে গোপন রাখা হয়েছে।

