১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার

অ্যাপল ও ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে একচেটিয়ার অভিযোগ এক্সএআই’র

ডেস্ক রিপোর্ট
spot_img
spot_img

 

মামলার মূল অভিযোগ, অ্যাপল ইচ্ছাকৃতভাবে চ্যাটজিপিটি-কে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই অ্যাপগুলোর পথ আটকে দিচ্ছে। এতে মাস্কের তৈরি গ্রক অ্যাপ জনপ্রিয়তার দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অ্যাপল ও ওপেনএআই একসঙ্গে বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে। অ্যাপেল ও ওপেনএআই উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিযোগিতার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অ্যাপল তার নিজস্ব অ্যাপ স্টোর-এ চ্যাটজিপিটি-কে শীর্ষ স্থানে রাখছে। অন্যদিকে গ্রকসহ প্রতিদ্বন্দ্বী এআই চ্যাটবটগুলোর র‌্যাংকিং ইচ্ছাকৃতভাবে নিচে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, অ্যাপল প্রতিদ্বন্দ্বী এআই অ্যাপগুলোর ক্ষেত্রে অ্যাপ অনুমোদনের প্রক্রিয়াও অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘায়িত করছে। এর ফলে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ কমে যাচ্ছে।

এক্স এআই এর মতে, অ্যাপল ও ওপেনএআই-এর মধ্যে এক ধরনের একচেটিয়া চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় অ্যাপল তার আইফোন, আইপ্যাড এবং ম্যাক ডিভাইসে ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি সরাসরি একীভূত করেছে।

এর ফলে চ্যাটজিপিটি এখন অ্যাপলের নিজস্ব বুদ্ধিমান সেবার অংশ হয়ে গেছে। এতে চ্যাটজিপিটি বিলিয়ন সংখ্যক ব্যবহারকারীর নির্দেশনা বা প্রম্পট পাচ্ছে। যা অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্ল্যাটফর্মের পক্ষে সম্ভব নয়।

ইলন মাস্ক এক্স-এ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “ওপেনএআই ছাড়া অন্য কোনো এআই কোম্পানির পক্ষে অ্যাপ স্টোরে এক নম্বরে ওঠা প্রায় অসম্ভব।”

তবে এই দাবি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী প্রমাণ দেখিয়েছেন যে, ডিপসিক এবং পারপ্লেক্সিটি নামের প্রতিদ্বন্দ্বী এআই অ্যাপগুলোও ইতিমধ্যেই অ্যাপ স্টোরের শীর্ষে উঠে গিয়েছিল।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা একচেটিয়া ব্যবসা বিরোধী আইন বা অ্যান্টিট্রাস্ট আইন অনুযায়ী বড় গুরুত্ব পেতে পারে।

এর আগে গুগল অ্যাপলের বিরুদ্ধে একই ধরনের মামলায় হেরে গিয়েছিল। গুগলকে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে রাখতে অ্যাপল অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করেছিল। আদালত এই চুক্তিকে প্রতিযোগিতা-বিরোধী বলে রায় দেয়।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অ্যাপল ও ওপেনএআই-এর বর্তমান অংশীদারিত্বকেও আদালত সেই একই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করতে পারে।

সর্বশেষ নিউজ