১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার

এআই দিয়ে সেক্সটর্শন, প্রাণ দিচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা

ডেস্ক রিপোর্ট
spot_img
spot_img

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া নগ্ন ছবির ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল বা অর্থ আদায়ের প্রবণতা ভয়াবহভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে এক কিশোর আত্মহত্যা করার পর বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে।

জানা গেছে, ওই কিশোরের নামে একটি এআই-জেনারেটেড নগ্ন ছবি বানিয়ে সাইবার চক্রটি ৩ হাজার ডলার দাবি করে। এতেই মানসিক চাপে পড়ে কিশোরটি আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামনে এসেছে ‘সেক্সটর্শন’ নামের ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলের ভয়াবহ বিস্তার। সাধারণত অনলাইনে অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিওর ভয় দেখিয়ে কাউকে প্রতারিত করে অর্থ বা সুবিধা আদায়কে সেক্সটর্শন বলা হয়।

এখন সাইবার চক্রগুলো আর বাস্তব ছবি ব্যবহার করছে না। তারা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে যে কারো নগ্ন ছবি তৈরি করছে, আর সেই ছবি দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে আদায় করছে অর্থ। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, বিশেষ করে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলেরা এসব ব্ল্যাকমেইলের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

নগ্ন ছবি তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে ‘নুডিফাই’ অ্যাপগুলো, যেগুলো ডিজিটালি জামাকাপড় মুছে দিয়ে পর্নোগ্রাফি বানাতে সক্ষম। আগে এসব অ্যাপ সেলিব্রিটিদের লক্ষ্য করলেও এখন স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ওপরও ব্যবহার করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংগঠন ‘ইন্টারনেট ওয়াচ ফাউন্ডেশন (আইডাব্লিউএফ)’ জানিয়েছে, এসব ছবি বাস্তবের মতোই ভয়াবহ। অনেক ক্ষেত্রেই আসল কোনো ছবির দরকার হয় না—এআই-ই যথেষ্ট। সংগঠনটি এমন একটি ‘পেডোফাইল গাইড’ শনাক্ত করেছে, যেখানে কিশোরীদের ব্ল্যাকমেইল করতে নুডিফাই টুল ব্যবহারের বিস্তারিত পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিকেটর’ বলছে, এ ধরনের ৮৫টি সাইটের বার্ষিক বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। মাত্র ছয় মাসে এর ১৮টি সাইট ২.৬ মিলিয়ন থেকে ১৮.৪ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। এসব সাইট অনেক সময় গুগল, অ্যামাজন ও ক্লাউডফ্লেয়ারের সেবাও ব্যবহার করছে।

যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যেই এআই-নির্ভর যৌনচিত্র তৈরি ও প্রচারকে ফৌজদারি অপরাধ ঘোষণা করেছে। সাজা হতে পারে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড। যুক্তরাষ্ট্রে গত মে মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘টেক ইট ডাউন অ্যাক্ট’ সই করেছেন। এর আওতায় ব্যক্তিগত অনুমতি ছাড়া ছবি তৈরি বা প্রচার করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দ্রুত অনলাইন থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

এদিকে মেটা (ফেসবুকের মূল কোম্পানি) হংকংভিত্তিক ‘ক্রাশ এআই’ নামের একটি নুডিফাই অ্যাপের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যারা নিয়ম ভেঙে মেটার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন চালাচ্ছিল। স্পেনের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন তরুণের একজন এআই-ডিপফেক পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছেন। এমনকি ২০২৫ সালের শুরুতে দেশটির একটি স্কুলে তিন কিশোর সহপাঠী ও শিক্ষকদের এমন ছবি বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার জন্য বৈশ্বিক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি শিশুদের জন্য এটি এক নতুন সংকট তৈরি করছে।

 

সর্বশেষ নিউজ