১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার

বগুড়া শতাব্দি ফিলিং স্টেশনে ইকবাল হাসান হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির দাবিতে সিরাজগঞ্জে মানববন্ধন

জলিলুর রহমান জনি (সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:)
spot_img
spot_img

শুক্রবার ১২ ই সেপ্টেম্বর দুপুরে সিরাজগঞ্জের পিপুলবাড়িয়া বাজারে বগুড়া শতাব্দী ফিলিং স্টেশনে ইকবাল হাসান হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিল টি ভেমারা বাজার থেকে শুরু করে পিপুলবাড়ি বাজার এসে শেষ হয় । এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন ইকবাল হাসানের বাবা আব্দুল করিম, বোনজামাই রাশেদুল ইসলাম, ভাই হায়দার মাস্টার, বন্ধু খাইরুল বাশার রাব্বি এবং এলাকাবাসী।

বগুড়ায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশন কর্মকর্তাকে ইকবাল হাসান ঘুমের মধ্যে পিটিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার রাকিবুল ইসলাম ওরফে রতন (২৬) নামের এক আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।পুলিশ ইতিমধ্যেই হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করেছে। তাতে দেখা যায়, বগুড়া শহরের দত্তবাড়ি এলাকায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশনের অফিসকক্ষে ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেনকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এতে সময় লেগেছে ২০ সেকেন্ডেরও কম।

মানববন্ধনে ইকবাল হাসানের বাবা আব্দুল করিম বলেন, “আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডের ন্যায্য বিচার চাই এবং এই বিচার প্রকাশ্যে হতে হবে। বিচার নিয়ে কোনো প্রকার তালবাহানা চলবে না।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতা সমর্থন জানায় এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানায়।

বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, মামলার তদন্তে ধীরগতি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপের কারণে ন্যায্য বিচার হয়ত বিলম্বিত হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের মামলায় দ্রুত তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সমাজ-সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার না হলে, তা সমাজের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বাড়াতে পারে।

মানববন্ধনের সময় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ইকবাল হাসানের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে মামলার তদন্ত প্রভাবমুক্ত থাকে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের প্রভাব শুধু ইকবালের পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি স্থানীয় সমাজকেও প্রভাবিত করেছে। এই ধরনের ঘটনাগুলি সমাজে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আইনি কাঠামোর দৃঢ়তা প্রয়োজন।

সর্বশেষ নিউজ