গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র ও জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আরও দুইজনের বিরুদ্ধে ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন জুলাই আন্দোলনের নেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আজ তার জবানবন্দি উপস্থাপন সম্পন্ন করেন। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তিনি গতকাল তার সাক্ষ্য প্রদান শুরু করেন।
আজ বিকেলে মামলার পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন নাহিদ ইসলামকে জেরা করবেন।
আজকের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং গাজী এস.এইচ. তামিম উপস্থিত ছিলেন। তাদের সঙ্গে অন্যান্য প্রসিকিউটররাও ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আমির হোসেন। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হয়ে পরবর্তীতে দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হওয়া পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
একপর্যায়ে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে সহায়তা করতে সাবেক আইজিপি আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। পরে তিনি মামলার ৩৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
এই মামলার বাইরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। একটি মামলায় তার শাসনামলে সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে, এবং অপর মামলাটি ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনকালে, আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার, প্রশাসনের অনুগত অংশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বর্তমানে এইসব অভিযোগের বিচার দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান।

