চাঁদপুর জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার শাখায় চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শুরুতেই ওটিএম (ওপেন টেন্ডার মেথড) পদ্ধতিতে ১৪টি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এসব টেন্ডারের প্রাক্কলিত মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। তবে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওটিএম পদ্ধতির মাধ্যমে অজুহাত দেখিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৮ থেকে ১০ জন ঠিকাদার নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন, যেখানে প্রায় ২০০ জন ঠিকাদার বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজ পাওয়ার জন্য ঠিকাদারদের অগ্রিম ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ দিতে হচ্ছে, ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জ্যেষ্ঠ ঠিকাদাররা অভিযোগ করে বলেন, আগে এলটিএম (লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড) পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বান করা হলে একেক টেন্ডারে অন্তত ১০০টি দরপত্র জমা পড়ত। কিন্তু এখন ওটিএম পদ্ধতিতে চার-পাঁচটি দরপত্র জমা পড়ে, তাও নিয়ম রক্ষার জন্য।
জানা যায়, জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার শাখার বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর যোগদানের পর থেকে ওটিএম পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। বঞ্চিত ঠিকাদারদের অভিযোগ, তিনি প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ঠিকাদারদের কাজ দিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন মন্ত্রী আবুল কালাম মজুমদার-এর ভাগিনা খ্যাত শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী কাজের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছি। কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়নি।
এদিকে ইঞ্জিনিয়ার শাখার সহকারী আব্দুল কুদ্দুস ভাট সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এখানে থেকে প্রভাবশালী ঠিকাদারদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন এবং বর্তমানে নতুন ঠিকাদারদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করছেন।
তিনি জানান, এখানে প্রায় দুই শতাধিক ঠিকাদার রয়েছে। নিয়ম মেনেই কাজ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ঠিকাদার সমাজ ও সংশ্লিষ্ট মহল পুরো টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

