বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক নেতার পক্ষে আরটিভি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ (রেজিঃ এ/ডি সহ) পাঠানো হয়েছে। “তথ্যগত বিভ্রান্তির কারণে সংবাদটি প্রত্যাহার করা হয়েছে” শিরোনামে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশটি প্রেরণ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এডি.পি.পি) অ্যাডভোকেট মো. মুজাহিদুল ইসলাম । তিনি জানান, মো. তৌহিদ হাসান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবিরের ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধি, তাঁর অনুমোদনক্রমে এই নোটিশ প্রদান করা হয়।
নোটিশে আরটিভির সিইও সৈয়দ আশিক রহমানসহ নয়জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তারা ১৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে আরটিভির অনলাইন সংস্করণে শিবিরকে জড়িয়ে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা” সংবাদ প্রকাশ করেছেন।
নোটিশে বলা হয়, প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাগিংয়ের ঘটনায় শিবিরের দুই কর্মী জড়িত বলে দাবি করা হয়, যদিও পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কোনো শিবির কর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। পরবর্তীতে আরটিভি ওই সংবাদটি প্রত্যাহার করে এবং “অনিচ্ছাকৃত ভুল” বলে পাঠকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে।
তবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সংবাদটি “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” এবং সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। সংগঠনটির দাবি, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাদের মর্যাদা ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, “সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়া সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি। অথচ আরটিভি সংবাদ প্রকাশের আগে কোনো পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, যা তাদের নিরপেক্ষ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
নোটিশে আরটিভিকে তিন দিনের মধ্যে সংবাদ প্রত্যাহার করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায়, সংগঠনটি ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলাসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে শিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সেক্রেটারি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “আমাদের কোনো কর্মী বা সদস্য র্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িত নন। আরটিভির মিথ্যা সংবাদ একটি আদর্শিক ছাত্র সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।”
তারা আরও দাবি করেন, সংবাদটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানিকর অপরাধের শামিল, যা সাংবাদিকতার নীতি ও আইনের প্রতি অবমাননা।
নোটিশের শেষে বলা হয়, “এই বিষয়ে যদি আরটিভি প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও ক্ষমা প্রার্থনা না করে, তবে সংগঠনটি আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবে, এবং যাবতীয় দায়ভার আরটিভিকেই বহন করতে হবে।”

