১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার

যেভাবে নির্মিত হয় মসজিদে নববী

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

বর্তমানে যেখানে মসজিদে নববী অবস্থিত সেখানে এসেই মহানবী (সা.)-এর উটনী বসে পড়েছিল। এখানেই তাঁর হিজরতের আগে মুসলিমরা নামাজ আদায় করত। রাসুল (সা.) এর মদিনায় আগমনের আগে আসআদ বিন জুরারা (রা.) সেখানে মুসলিমদেরকে নামাজ ও জুমা পড়াতেন। জায়গাটি ছিল আসআদ (রা.)-এর প্রতিপালনাধীন সাহল ও সুহাইল নামক দুই এতিম বালকের। সেখানে তখন উট বাঁধা হতো। নবী (সা.) জায়গাটি কিনে তাতে মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। বালক দুটি বলল, বরং আমরা তা বিনা মূল্যে দান করতে চাই। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) তা বিনা মূল্যে নিতে অস্বীকার করেন এবং তিনি উহা ১০টি স্বর্ণ মুদ্রার বিনিময়ে কিনে নেন।

আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনায় আগমন করলেন তখন তিনি মদিনার এক প্রান্তে বনু আমর বিন আউফ নামক এক গোত্রে অবতরণ করলেন। তিনি সেখানে ১৪ দিন অবস্থান করেন। তারপর তিনি বনু নাজ্জারের নেতৃস্থানীয় লোকদের কাছে লোক পাঠালেন। তারা ছিলেন সম্পর্কে তাঁর মামা। তারা তাদের তলোয়ার গলায় লটকিয়ে আগমন করলেন, আমি যেন এখনও দেখছি যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর বাহনের ওপর আর আবু বকর (রা.) তাঁর পেছনে উপবিষ্ট। আর বনু নাজ্জারের নেতৃস্থানীয় লোকেরা তাঁর চারপাশে চলছে। অবশেষে তিনি আবু আইয়ুব (রা.)-এর ঘরের সামনে অবতরন করলেন। তিনি নামাজের সময় যেখানেই থাকতেন, সেখানেই তা আদায় করতেন। তিনি বকরির পালের স্থানেও নামাজ আদায় করতেন। তারপর তাঁকে মসজিদ তৈরি করার আদেশ দেওয়া হলো।

আনাস (রা,) বলেন, সেখানে মুশরিকদের কবর, ভগ্ন গৃহ ও খেজুর গাছ ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) আদেশে এসব কবর সমতল করে দেওয়া হলো আর খেজুর গাছ কেটে ফেলা হলো এবং বিধ্বস্ত ঘরগুলো ভেঙ্গে সমান করে দেওয়া হলো। সাহাবিরা কেবলার দিকে সারিবদ্ধ করে খেজুর গাছ রাখলেন এবং পাথর দ্বারা তার গোড়া ভরাট করলেন। খেজুরের কাঠ দিয়ে এর খুঁটি নির্মাণ করা হয় আর ছাদে খেজুর গাছের শাখা স্থাপন করা হয়। তারা এই জায়গায় থাকা শিলাখণ্ডগুলো সরাচ্ছিলেন আর ছড়া গাচ্ছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা বলছিলেন—‘হে আল্লাহ! আখেরাতের মঙ্গলই প্রকৃত মঙ্গল, আপনি আনসার ও মুহাজিরদেরকে সাহায্য করুন।’

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও নির্মাণ কাজে অংশ গ্রহণ করেন এবং পাথর ও ইট বহন করেছেন। তিনি পেছনের দিকে তিনটি দরজা রাখেন। একটি দরজার রাখেন বাবে রহমত। একটি দরজা দিয়ে তিনি মসজিদে প্রবেশ করতেন। মসজিদে নববীর পাশেই তিনি তাঁর স্ত্রীদের ঘরও কাঁচা ইট দিয়ে তৈরী করেন। খেজুরের শাখা ও কাঠ দিয়ে তার ছাদ নির্মাণ করেন। গৃহ নির্মাণ শেষে তিনি আয়িশা (রা.)-এর সাথে নবনির্মিত ঘরে বাসর করেন, যেটি তিনি মসজিদে নববীর পূর্ব প্রান্তে নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী সাওদা (রা.)-এর জন্য আরেকটি গৃহ নির্মাণ করেন।

সে সময় মসজিদে নববীর চারটি দেয়াল ছিল। কোন ছাদ ছিল না। কেবলা ছিল বায়তুল মুকাদ্দাস। মসজিদটি কেবলার দিক থেকে পিছনের দেয়াল পর্যন্ত একশ হাত লম্বা ছিল। বাকি দুই দিকেও অনুরূপ বা তার চেয়ে একটু কম ছিল। ভিত্তিমূল ছিল তিন হাত পরিমাণ। এর ওপরই মুসলিমরা তা কাঁচা ইট দিয়ে তৈরি করেন।

তথ্যঋণ : জাদুল মাআদ ও সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ৭০২

সর্বশেষ নিউজ