মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উদযাপনে আয়োজিত যুব ম্যারাথন কর্মসূচির উদ্বোধনে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে এ ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়।
আমিরে জামায়াত বলেন, ‘মাত্র পৌনে চার বছরের দুঃশাসন মানুষকে তটস্থ করে তুলেছিল। এরপরে তাদের কার্যক্রমের পরিণতি হিসেবে দুনিয়া থেকে তারা বিদায় নিয়ে ছিলেন। কে সেদিন তাদের হত্যা করেছিল? যারা ৭১-এর রণাঙ্গনে বুক চিতিয়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিল, সেই সৈনিকরা কেন তারা সেদিন খেপে গিয়েছিল? এর উত্তর আওয়ামী লীগকেই খুঁজতে হবে, জাতিকে নয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম ৭২-এর ১০ জানুয়ারি থেকে ৭৫-এর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে যে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল, একনায়কতন্ত্র কায়েম হয়েছিল, যার পরিণতি স্বচক্ষে দেখেছে এ দেশের মানুষ; এটা থেকে আওয়ামী লীগ শিক্ষা নেবে। কিন্তু ওই যে কথা আছে—কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না, সাবান আর সার্ফ এক্সেল যা দিয়েই পরিষ্কার করেন না কেন, কালো কয়লা আরো কুচকুচে কালো হয়; আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।’
ডা. শফিকুর রহমান জানান, একটা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের নেতাদের তিরস্কার করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে গিয়ে বলেছিলেন—তোমরা কি হাতে চুড়ি পরে বসে আছো? তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন—আর যদি আমার দলের একটা মানুষকে হত্যা করা হয়, তাহলে তার বিনিময়ে ১০টা লাশ ফেলে দিতে হবে। এই ছিল একজন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন হুংকার, আস্ফালন। তারা তাই করেছিলেন। সেই সময়টা খালে-বিলে, নদী-নালায়, জঙ্গলে, হাটে-মাঠে সর্বত্র মানুষের টুকরা টুকরা লাশ পাওয়া যেত। এরপরে জনগণের দ্বারা তারা প্রত্যাখ্যাত হলেন।
তিনি আরো বলেন, আবার অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকাশ্য দিবালোকে পল্টন মোড়ে সাপকে যেভাবে মারা হয়, সেইভাবে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হলো। এমনকি বিশ্ব বিবেকের মানবতাকে লজ্জা দিয়ে সেদিন মাটিতে পড়ে যাওয়া নিথর শরীরের ওপর উঠে তারা লাফালাফি-নাচানাচি করেছিল। এরা কোন প্রজাতি, এরা কি আসলেই মানুষ প্রজাতি? পশুও এ রকম আচরণ করে না।

