বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে দলের সংসদ সদস্যরা (এমপি) শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি নেবেন না। প্লট বা ফ্ল্যাটও নেবেন না। রাজনীতিকে জামায়াত পেশা নয়, বরং একটি কর্তব্য হিসেবে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ড মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
এমপিদের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘দল ক্ষমতায় গেলে তাদের সংসদ সদস্যরা (এমপি) কোনোভাবেই বিনা ট্যাক্সের গাড়ি গ্রহণ করবেন না।’ তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা রিকশায় চলব।’
যাদের সামর্থ্য রয়েছে, তারা নিজেদের অর্থে পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করে গাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনবেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এমপিদের জন্য নামমাত্র মূল্যে যেসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা–ও তারা নেবেন না।
যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে, তারাই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘এরা আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতটুকু পর্যন্ত রাখতে দেয় না।’
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দূর করা হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ নিশ্চিত করা হবে। জনগণের সম্পদে কেউ হাত দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
চা-শ্রমিকদের ব্যাপারে শফিকুর রহমান বলেন, চা-শ্রমিকেরা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যুগের পর যুগ তারা একই কষ্টসাধ্য পেশায় আটকে আছেন। জামায়াত ক্ষমতায় এলে চা-বাগান আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করা হবে। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হবে, যাতে তাদের কোনো সন্তান শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ফুলের বাগানের মতো। এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান— এই চার ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। ধর্মের ভিত্তিতে কারও ওপর বাড়াবাড়ি করা ইসলাম সমর্থন করে না, এটা হারাম। কোনো প্রকৃত ধার্মিক মানুষ কখনো অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতি করতে পারে না।

