৩ মে ২০২৬, রোববার

মিরসরাই-রামগড়-ফটিকছড়ি সীমান্তে থামছেই না চোরাচালান: কৌশল বদলে সক্রিয় সিন্ডিকেট

নুরুল আলম, চট্টগ্রাম উত্তর বিভাগ
spot_img
spot_img

চট্টগ্রামের মিরসরাই, খাগড়াছড়ির রামগড় ও ফটিকছড়ি সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্ত এখন চোরাচালান সিন্ডিকেটের অভয়ারণ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে বছরে শত কোটি টাকার পণ্য জব্দ হলেও কৌশল বদলে সক্রিয় রয়েছে শক্তিশালী পাচারকারী চক্র। মূলত ফেনী ও মুহুরী নদী এবং সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে দিনরাত চলছে এই অবৈধ কারবার।

পাচারের প্রধান রুট ও পণ্য

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতকে বিভক্তকারী ফেনী ও মুহুরী নদীই এখন চোরাচালানের প্রধান করিডোর। সন্ধ্যা হলেই এই নদীপথে সক্রিয় হয়ে ওঠে পাচারকারীরা। ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, কসমেটিকস ও খাদ্যপণ্য বড় বড় চালানে আসলেও মাদকদ্রব্য আসছে সারা বছর। বিশেষ করে করেরহাট ও রামগড় সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় চিনি, প্রসাধনী ও গবাদিপশু পাচার হচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে।

বিজিবির সাফল্য ও সিন্ডিকেটের নতুন কৌশল

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ এই সীমান্ত অঞ্চলের। তবে ধরা পড়ার ঝুঁকি কমাতে সিন্ডিকেট এখন কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। বড় চালানের পরিবর্তে তারা এখন ছোট ছোট লটে পণ্য আনছে। স্থানীয় দালাল ও পাহাড়ি গোপন পথ ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিজিবির চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা।

সীমান্তবাসীর উদ্বেগ ও মাদক আতঙ্ক

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিজিবির টহল বাড়ায় দিনের বেলায় তৎপরতা কিছুটা কমলেও রাতের আঁধারে চোরাচালান চলছে ‘ওপেন’। এতে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ভারতীয় মাদকের সহজলভ্যতায় বিপথগামী হচ্ছে স্থানীয় যুবসমাজ।

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান:

“মিরসরাই ভারতীয় সীমান্ত অঞ্চল হওয়ায় এখানে মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয়তা রয়েছে। অভিভাবকদের মধ্যে যুবসমাজ নিয়ে উদ্বেগ আছে। পুলিশের প্রচেষ্টায় চোরাচালান কিছুটা কমলেও এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।”

সমাধানের পথ

স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে চোরাচালান নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো, ড্রোন টহল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন। একইসঙ্গে সীমান্তে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয়দের সচেতন করা না গেলে এই অবৈধ বাণিজ্য থামানো কঠিন হবে।

সর্বশেষ নিউজ