ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের আদেশ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাড্ডা থানার এসআই কাজী ইকবাল হোসেন তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার সুদীপ চক্রবর্তীকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে সুদীপের পক্ষে তার আইনজীবী মধু সূদন দেব জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে, গত রোববার আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল।
চিরকুটে যা ছিল নিহত মুনিরা মাহজাবিন মিমো ঢাবির ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর বাড্ডার বাসায় থাকতেন। গত ২৬ এপ্রিল সকালে নিজের ঘর থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। সেখানে লেখা ছিল, “সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া।”
মামলার প্রেক্ষাপট শিক্ষার্থীর মৃত্যুর দিন দুপুরের দিকে তার বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বাদি হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পরদিনই সুদীপকে গ্রেপ্তার করে প্রথম দফায় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

