ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যার প্রায় দ্বিগুণ রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। বেড না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এর মধ্যে কেউ কেউ বেড না পেয়ে অন্য ক্লিনিক কিংবা প্রাইভেট হাসপাতালে ছুটছেন। এদিকে ডাক্তার ও জনবল সংকটে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের।
৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন দুই হাজারের বেশি রোগী।
পুরাতন ভবনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কোনো বেড খালি নেই। ফলে অনেক রোগী মেঝেতে এবং হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. হুমায়ূন কবির বলেন, ৫০০ বেডের হাসপাতালটিতে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকছে গড়ে এক হাজারের বেশি। এছাড়া প্রতিদিন আউটডোরে রোগী দেখা হচ্ছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার। ভর্তির তুলনায় লোকবল অর্ধেক।
দালালদের দৌরাত্ম্য
এদিকে হাসপাতালে প্রতি বছরের যে চাহিদা দেওয়া হয় তার অর্ধেক পাওয়া যায় সরকার থেকে। জানা যায়, এই হাসপাতালে চিকিৎসকদের মঞ্জুরিকৃত প্রথম শ্রেণির ১৮৪টি পদ রয়েছে। যার মধ্যে অনেক পদ শূন্য রয়েছে। মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং নার্সরাই এখন সময়-অসময়ে ভরসা। পাশাপাশি হাসপাতালে নার্স, ওয়ার্ড বয়, আয়া ও ক্লিনারের মধ্যে ২০টির বেশি পদ শূন্য রয়েছে। এদিকে এ অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধায় হাসপাতালটিতে মাস্টার রোলের কর্মচারী ও দালালদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে। টাকা ছাড়া রোগী আনা-নেওয়ায় কোনো কর্মচারীকে পাওয়া যায় না।
প্যাথলজি বিভাগ দুপুরের পর বন্ধ
এক ভবনের জরুরি বিভাগে গেলে রোগীদের অন্য ভবনে যেতে বলা হয়। ওয়ার্ড বয় ও আয়ারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যস্ত থাকায় রোগীর স্বজনদের নিজেরই স্ট্রেচার বা হুইলচেয়ার জোগাড় করে রোগীকে ওয়ার্ডে নিতে হয়। অফিস সময়ের পর হাসপাতালের এক্স-রে, সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্ন প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ থাকায় দুপুরের পর রোগীদের এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয় হাসপাতালের বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। হাসপাতালটিতে মেডিসিন, রেসপিরেটরি মেডিসিন, সাইকিয়াক্রি, গ্যাস্ট্রোএক্রারোলজি, ডার্মাটোলজি, নিউরোলজি, কার্ডিওলজি, সিসিইউ, ইএনটি, চক্ষু, শিশু, গাইনী অ্যান্ড অবস, ক্যাজুয়ালিটি, অর্থো-সার্জারি, শিশু সার্জারি ইউরোলজি, নিউরোসার্জারি, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি এবং নেফ্রোলজি ওয়ার্ডের পাঁচশ বেড রয়েছে।

