অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে একটি বৌদ্ধ মন্দিরের প্রধান ভিক্ষুর বিরুদ্ধে ছয়জন শিশুকে যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত বৌদ্ধ ভিক্ষু নাওতুনে বিজিথা (৭০) তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বুধবার (৮ অক্টোবর ২০২৫) মেলবোর্নের কাউন্টি কোর্টে এই ঐতিহাসিক মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
মন্দিরের ভেতরেই চলত নির্যাতন
প্রসিকিউটর ফিওনা মার্টিন আদালতকে জানান, ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে মেলবোর্নের স্প্রিংভেল এবং কিজবরো এলাকার ধম্ম সারনা মন্দিরে এই ঘটনাগুলো ঘটে। অভিযুক্ত ভিক্ষু শিশুদের তার খাস কামরায় প্রলুব্ধ করে নিয়ে যেতেন। কোনো শিশুকে ললিপপের প্রলোভন দেখিয়ে, আবার কাউকে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার নাম করে কামরায় ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযোগকারী ছয় নারীর বয়স ৩০-এর কোঠায়।
নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা ও সাক্ষ্য
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানানো হয়, জনৈক অভিযোগকারীকে ভিক্ষু ডিজিটাল পেনিট্রেশন করেছেন, আবার কাউকে তার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করতে বাধ্য করেছেন। প্রসিকিউটর আরও জানান, জনৈক এক শিশুকে নির্যাতনের পর ভিক্ষু ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০০৫ সালে এক নারী অভিযোগ করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন, তবে ২০২২ সালে নতুন তদন্ত শুরু হলে তিনি পুনরায় জবানবন্দি দেন।
অভিযোগ অস্বীকার ও বিবাদী পক্ষের দাবি
৭০ বছর বয়সী অভিযুক্ত ভিক্ষু নাওতুনে বিজিথা আদালতে উপস্থিত থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন। তার ব্যারিস্টার নিকোলাস পাপাস এই অভিযোগগুলোকে ‘অসম্ভব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জুরিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ২৫-৩০ বছর আগের স্মৃতি কতটা নির্ভুল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি। এই বিচার প্রক্রিয়া প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

