“সন্ত্রাসীগোষ্ঠী যেই হোক আইনের আওতায় আনা হবে”

নূরুল  করিম রাসেল, কক্সবাজার
spot_img
spot_img

নূরুল  করিম রাসেল, কক্সবাজার-৬ মে।

কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্গম পাহাড় কেন্দ্রিক অপহরণ ও ডাকাতির অন্যতম হোতা ছালেহ বাহিনীর প্রধান হাফিজুর রহমান ওরফে ছলে উদ্দীনক ও তার সহযোগী ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। অভিযান চলাকালে এসময় ছালেহ বাহিনীর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে র‌্যাবের গুলি বিনিময় হয়। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ।

শুক্রবার (৫ মে) রাত ১০ টায় টেকনাফের বাহারছড়া পাহাড় এলাকায় র‌্যাবের অভিযান শুরু হয় এবং আজ ভোর রাত পর্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় এই অভিযান চলে।

আটকরা হলেন, হাফিজুর রহমান ওরফে ছলে ডাকাত (৩০) ও তার সহযোগী নুরুল আলম প্রকাশ নূরু (৪০), আক্তার কামাল প্রকাশ সোহেল(৩৭), নুরুল আলম প্রকাশ লালু (২৪), হারুনুর রশিদ (২৩) ও ৬ রিয়াজ উদ্দিন ও বারি (১৭)।

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশী পিস্তল ও ৫ রাউন্ড গুলি, দেশীয় তৈরী ৩টি একনলা বড় বন্দুক, ২টি একনলা মাঝারি

বন্দুক, ৬টি একনলা ছোট বন্দুক সহ মোট ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র , ১৭ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড খালি কার্তুজ, ২টি ছুরি ও ৬টি দেশীয় তৈরি দা।

আজ শনিবার দুপুরে কক্সবাজার র্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান র‌্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্গম পাহাড়কেন্দ্রিক বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও ডাকাতির অন্যতম হোতা হাফিজুর রহমান প্রকাশ ছালেহ উদ্দিন প্রকাশ ছলে বাহিনী।

খন্দকার আল মঈন বলেন, আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, টেকনাফের দূর্গম পাহাড়ে অবস্থান করে হাফিজুর রহমান ওরফে ছালেহ ডাকাতের সরাসরি নেতৃত্বে এই চক্রটি অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়, মাদক ব্যবসাসহ অন্যান্য অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তার এই সন্ত্রাসী দলে সদস্য সংখ্যা ১২-১৫ জন। সালেহ এর নেতৃত্বে এই সন্ত্রাসী দলটি টেকনাফের শালবাগান পাহাড়, জুম্মা পাড়া ও নেচারি পার্ক। এলাকা, বাহারছড়া ইউনিয়ন এর নোয়াখালী পাড়া পাহাড়, বড় ডেইল পাহাড়, কছপিয়া পাহাড়

জাহাজপুরা পাহাড়, হলবনিয়া পাহাড়, শিলখালী পাহাড় এলাকায় অবস্থান করে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করত। কখনও অটোরিক্সার চালক এবং কখনও সিএনজি চালক হিসেবে ছদ্মবেশ ধারণ করে। বিভিন্ন কৌশলে তারা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা হোয়াইক্যং, উনচিপ্রাং, শ্যামলাপুর, জাদিমোড়া ও টেকনাফ ইত্যাদি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের টার্গেট করে অপহরণপূর্বক মুক্তিপণ আদায় ও ডাকাতি করত।

খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত হাফিজুর রহমান প্রকাশ ছালেহ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ২০১২ সালে মিয়ানমার থেকে সে অবৈধ পথে বাংলাদেশে আসে।

মিয়ানমার থেকে দেশে আসা রোহিঙ্গাদের তালিকা থাকলেও সরকারিভাবে ছলের কোনো নামের তালিকা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ছলে তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গা নয়। প্রতিবারই অপরাধ করে তিনি আবার মিয়ানমারে আত্মগোপন করেন।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে সে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যায় এবং তৎকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশ সমূহের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে যোগসাজসে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে সে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে এবং অবৈধভাবে উখিয়া ও কক্সবাজারে অবস্থান করে এবং অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে যাতায়াত ও অপরাধমূলক কার্যক্রম করতে থাকে। এ সময় অপহরণ-ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম করে আসছিল ছালেহ উদ্দিন। ছালেহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড সংগঠনের জন্য ১২-১৫ জন সদস্য নিয়ে ছালে বাহিনী গঠন করে। সে দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান করে অপহরণ, ডাকাতি ও মাদক চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করত।এছাড়াও মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড সহ পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে মানবপাচার করত বলে জানা যায়।

খন্দকার আল মঈন জানান এই ছালেহ উদ্দিন মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গ্রুপ আরসার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।

সর্বশেষ নিউজ