শিশু ফাহিমা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা: ধর্ষণের পর অজ্ঞান হতেই গলাটিপে মারল পাষণ্ড জাকির, স্যুটকেসে লুকিয়েছিল লাশ

ডেস্ক রিপোর্ট
spot_img
spot_img

সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত পাষণ্ড জাকির হোসেন (৩০) পুলিশের কাছে লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত বর্ণনা দিয়েছে। সিগারেট এনে দেওয়ার পর চার বছরের অবুঝ শিশুটির ওপর চড়াও হয় নেশাগ্রস্ত জাকির। ধর্ষণের একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে ভয় পেয়ে তাকে গলাটিপে হত্যা করে সে।

নেশাগ্রস্ত জাকিরের লোলুপ দৃষ্টি ও নৃশংসতা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফাহিমা আক্তার সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। চঞ্চল ও মিষ্টি স্বভাবের কারণে গ্রামের সবাই তাকে আদর করত। গত ৬ মে সকাল ১০টার দিকে প্রতিবেশী দূরসম্পর্কের চাচা জাকির তাকে দোকান থেকে দুটি সিগারেট এনে দিতে বলে। ফাহিমা সিগারেট নিয়ে ঘরে ঢুকলে ইয়াবাসক্ত জাকিরের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার ওপর। ঘর খালি থাকায় সে দরজা আটকে ফাহিমাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে। শিশু ফাহিমা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জাকিরকে বলতে শোনা যায়, “আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম, ইয়াবা খাই। আমার মধ্যে কেনে যে অতো অমানুষ জাগিয়া উঠল! রেপ করার সময় সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে ভয় পেয়ে গলাটিপে মেরে ফেলি।”

মরদেহ স্যুটকেসে লুকানো ও ডোবায় গুমের চেষ্টা

হত্যাকাণ্ডের পর ফাহিমার নিথর দেহটি ঘরের একটি স্যুটকেসের (ব্রিফকেস) ভেতর লুকিয়ে রাখে জাকির। যখন এলাকাবাসী ও পুলিশ নিখোঁজ ফাহিমাকে খুঁজছিল, তখন সে স্যুটকেসটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। দুই দিন পর লাশ থেকে গন্ধ বের হতে শুরু করলে পরিবারের লোকজন জেনে যাওয়ার ভয়ে রাতের আঁধারে মরদেহটি বাড়ির পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয়। গত ৮ মে পুলিশ ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের সংবাদ সম্মেলন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের প্রস্তুতি

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও ডিসি (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। জাকিরের দেখানো মতে ঘর থেকে রক্তমাখা চাদর ও লাশ লুকানোর ব্রিফকেসটি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “জাকির ধর্ষণের চেষ্টার কথা বললেও শিশুটির শরীরে ধর্ষণের অনেক আলামত বা সিমটম পাওয়া গেছে। মেডিকেল রিপোর্ট আসলেই মামলায় সংশ্লিষ্ট ধারা যোগ হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দিয়ে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর।”

এলাকায় গণবিক্ষোভ ও উত্তাল পরিস্থিতি

পাষণ্ড জাকির গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কান্দিগাঁও এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। ফাহিমার খুনি জাকিরের ফাঁসির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। একপর্যায়ে উত্তেজিত এলাকাবাসী ঘাতক জাকিরের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো সিলেট জুড়ে নিন্দার ঝড় বইছে এবং দ্রুততম সময়ে খুনি জাকিরের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করছেন সাধারণ মানুষ।

সর্বশেষ নিউজ