মরদেহ টুকরা করে নদী-ডোবায় ফেললেন স্ত্রী: ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ড্রামের দুর্গন্ধে ধরা

ন্যাশনাল ডেস্ক
spot_img
spot_img

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় পরকীয়া ও পারিবারিক কলহের জেরে এক চরম পৈশাচিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। মালয়েশিয়াপ্রবাসী স্বামী জিয়া উদ্দিন সরদারকে (৪৫) হত্যার পর তাঁর মরদেহ কেটে টুকরো টুকরো করে নদী ও ডোবায় ফেলে দিয়েছেন তাঁরই আপন স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) রাতে অভিযুক্ত স্ত্রী আসমা আক্তারকে আটক করার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই লোমহর্ষক তথ্য বেরিয়ে আসে।

নৃশংসতার চরম সীমা ও লাশের মাংস আলাদা করা

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, গত মঙ্গলবার আসমা আক্তার সুপরিকল্পিতভাবে তাঁর স্বামীকে হত্যা করেন। হত্যার পর পৈশাচিকতার চরম সীমা ছাড়িয়ে জিয়া উদ্দিনের মরদেহ থেকে হাত ও পা কেটে আলাদা করেন এবং হাড় থেকে মাংস কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। মরদেহের মাংসের কিছু অংশ তিনি পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দেন এবং কিছু অংশ স্থানীয় একটি সড়কের পাশের ডোবায় ফেলে দেন।

ড্রামের দুর্গন্ধে ৯৯৯-এ কল এবং পুলিশের উদ্ধার অভিযান

মরদেহের অবশিষ্টাংশ ও হাড়গোড় একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে আসমা আক্তার অন্য একটি বাসার ফ্রিজে লুকিয়ে রাখতে যান। এ সময় ড্রাম থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে স্থানীয় প্রতিবেশীদের মনে চরম সন্দেহ জাগে। তারা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশকে অবহিত করেন।

সংবাদ পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমা আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশের কড়া জেরার মুখে তিনি স্বামীকে খুন ও খণ্ডবিখণ্ড করার কথা অকপটে স্বীকার করেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী একটি ডোবা থেকে জিয়া উদ্দিনের মাথাসহ কঙ্কালের হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি ও লোহার রড উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মুঠোফোনে প্রেম থেকে দ্বিতীয় সংসার ও কলহের জের

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত জিয়া উদ্দিন সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকার আবদুর রাজ্জাক সরদারের ছেলে। ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় থাকা অবস্থায় মুঠোফোনের মাধ্যমে পিরোজপুরের মেয়ে আসমার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তখন তাঁরা দুজনেই বিবাহিত ছিলেন এবং দুজনেরই পূর্বের সংসারে দুটি করে সন্তান ছিল। পরবর্তীতে তাঁরা আগের সংসার ভেঙে নতুন করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গত বছরের মে মাসে জিয়া মালয়েশিয়া থেকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর থেকেই তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে তীব্র ঝগড়া ও মনোমালিন্য শুরু হয়।

পরিবারের আর্তনাদ ও আইনি প্রক্রিয়া

নিহত জিয়ার চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন বলেন, “ভাই দেশে ফিরে আসার পর আমাদের পাশের গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। আমাদের সাথে ভাবি যোগাযোগ রাখতে দিতেন না। আগামী কোরবানি ঈদের পর ভাইয়ের আবার মালয়েশিয়া ফিরে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই ভাবি ভাইকে এত নির্মমভাবে কেটে টুকরো করে ফেলল! আমরা এই পিশাচিনীর ফাঁসি চাই।”

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম জানিয়েছেন, শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরা করার এই পৈশাচিক ঘটনার মূল আসামিকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো সহযোগী বা কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে গভীর তদন্ত চলছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরসহ আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

সর্বশেষ নিউজ