সিলেটের সবুজ উইকেটে প্রথম সেশনেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। একপর্যায়ে মাত্র ১১৬ রানেই টপ অর্ডারের ৬ ব্যাটার সাজঘরে ফিরে গেলে স্কোরবোর্ড ২০০ পার হওয়া নিয়েই শঙ্কা দেখা দেয়। তবে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে দলকে টেনে তোলেন উইকেটকিপার ব্যাটার লিটন দাস। লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং লেজের সারির ব্যাটারদের লড়াকু মানসিকতার ওপর ভর করে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের এক লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে লিটনের মহাকাব্যিক প্রতিরোধ
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। পাকিস্তানের পেসার খুররম শাহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাসের তোপে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে টাইগাররা। তবে চেনা কন্ডিশনে বুক চিতিয়ে লড়াই শুরু করেন লিটন দাস। লেজের সারির ব্যাটার তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ এবং বিশেষ করে শরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন তিনি।
দলীয় ৭৬তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ১৫৯ বলে ১২৬ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন লিটন। তাঁর এই নান্দনিক ইনিংসে ১৬টি চারের পাশাপাশি ছিল ২টি দর্শনীয় ছক্কার মার। হাসান আলীর একটি শর্ট পিচ বলকে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে আবদুল্লাহ ফাজলের দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে পরিণত হন তিনি। আউট হওয়ার পর অবশ্য পাকিস্তানি পেসার হাসান আলী লিটনের সাথে করমর্দন করে পিঠ চাপড়ে দেন, যা মাঠে এক দারুণ স্পোর্টসম্যানশিপের উদাহরণ তৈরি করে।
শরিফুলের অবদান ও বাংলাদেশ টেল-এন্ডারদের লড়াই
লিটনকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন পেসার শরিফুল ইসলাম। ডান পায়ে ক্র্যাম্প বা পেশির টানের সমস্যায় ভুগলেও দলের প্রয়োজনে ৩০ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। লিটন ও শরিফুলের মধ্যকার নবম উইকেটের এই গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চাশোর্ধ রানের জুটিটিই মূলত বাংলাদেশকে আড়াইশ পার করতে সাহায্য করে। শরিফুল মাঠ ছাড়ার আগে দুটি চারের মারও হাঁকান। বাংলাদেশের শেষ উইকেট হিসেবে নাহিদ রানা হাসান আলীর বলে উইকেটের পেছনে রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিলে ২৭৮ রানে থামে টাইগারদের প্রথম ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শাহজাদ ৪টি এবং মোহাম্মদ আব্বাস ৩টি উইকেট শিকার করেন। হাসান আলী নেন ২টি উইকেট।
শেষ বিকেলে ফ্লাডলাইটের নিচে কঠিন পরীক্ষায় পাকিস্তান
প্রথম দিন শেষের ঠিক আগমুহূর্তে ব্যাটিংয়ে নামতে হচ্ছে পাকিস্তান দলকে। দিনের এই সময়টিতে সাধারণত আলো কমে আসে এবং ফ্লাডলাইটের আলোয় নতুন চেরি (লাল বল) সুইং করে সবচেয়ে বেশি। পিচ কিউরেটর টনি হেমিং আম্পায়ারদের সাথে কথা বলে উইকেট বুঝিয়ে দেওয়ার পর পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজান আওয়াইস এবং আবদুল্লাহ ফাজল ক্রিজে প্রবেশ করেছেন।
বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইটের অধীনে ইতিমধ্যেই শরিফুল ইসলাম এবং গতিদানব নাহিদ রানা নিজেদের বোলিং হাত গরম করে নিয়েছেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দিনের শেষ ৩০ মিনিট পাকিস্তানের ওপেনারদের জন্য নরককুণ্ড হতে পারে। স্কোরবোর্ডে ২৭৮ রান খুব বড় না হলেও, সিলেটের এই উইকেটে টাইগার পেসাররা যদি শুরুতেই জোড়া আঘাত হানতে পারেন, তবে ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

