দেশের আপামর জনসাধারণ এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন এবং তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিটি কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “দেশের মানুষ এখন আর সহজ-সরল নেই। তারা দেশের ভালো-মন্দ সবকিছু খুব ভালো করে বোঝেন এবং জানেন। এই দেশের মানুষ কিন্তু অন্যায়কারী কাউকে কোনোদিন ক্ষমা করে না। এমনকি আমরা নিজেরাও যদি ক্ষমতার অপব্যবহার বা কোনো প্রকার ভুল করি, তবে জনগণ আমাদেরও কোনোভাবে ক্ষমা করবে না।”
গতকাল শনিবার (২৩ মে ২০২৬) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উপলক্ষে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘তরুণদের রক্তের ধারা ম্লান হতে দেওয়া যাবে না’
আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সম্পাদক প্রকৌশলী কে. এম. আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশ বিনির্মাণে পেশাজীবীদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের যে সাহসী ছেলেরা নিজেদের বুকের তাজা রক্ত ও মূল্যবান প্রাণ দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে, তাদের সেই আত্মত্যাগের রক্তের ধারাকে আমরা যেন কোনো অবস্থাতেই ম্লান হতে না দিই। আমাদের কোনো ভুল পদক্ষেপের কারণে নতুন বাংলাদেশের এই অর্জন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমরা সেই পুরোনো ঘুণে ধরা বাংলাদেশ আর কোনোদিন দেখতে চাই না।”
প্রকৌশলীদের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রমে প্রকৌশলী সমাজকে আরও অনেক বেশি সক্রিয়, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মেগা প্রকল্প বা যেকোনো অবকাঠামোগত নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রে এমন দূরদর্শী পরিকল্পনা করতে হবে, যা সরাসরি জনকল্যাণে এবং দেশের টেকসই অর্থনীতিতে কাজে লাগে।
পিরোজপুর এলজিইডিতে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার মেগা লোপাট
প্রকৌশল খাতের অতীত অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে টেনে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) থেকে শুধু পিরোজপুর জেলাতেই সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ধরণের অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশের পুরো অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়।
তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরণের আর্থিক কেলেঙ্কারি রোধে প্রকৌশলীদের অত্যন্ত সততা ও সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি ফাইলের ওপর কড়া নজরদারি এবং দৃষ্টি দিতে হবে। তিনি অতীতের সব বিভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
প্রকৌশলীদের পুনরায় সচেতন করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকে যে নতুন রাজনৈতিক সূর্যোদয় হয়েছে, আসুন আমরা সবাই সেই সূর্যোদয়ের আলোয় আলোকিত হই। বাংলাদেশের জন্য একটা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক দিগন্ত সৃষ্টি করি। যেহেতু সারা দেশের মানুষের আপনাদের ওপর একটা গভীর প্রত্যাশা, ভরসা ও আস্থা আছে, সেটি আপনারা সততার সাথে পালন করবেন।”
আইইবি-র অনুষ্ঠানে সুধীজনের উপস্থিতি
সংবর্ধনা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবি প্রেসিডেন্ট ও রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম রিজু। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আইইবি দল-মত নির্বিশেষে দেশের সকল প্রকৌশলীকে একত্রিত করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং জাতি গঠনে ধারাবাহিক অবদান রেখে চলেছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন আইইবি সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন (বকুল), সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম (তুলি)।
এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন—এমপি প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম ক্যামেলিয়া, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ এবং স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল বাকী সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশলীবৃন্দ।

