কড়া নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করেই কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে প্রকাশ্য দিবালোকে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের অতর্কিত ও এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণে ঘটনাস্থলেই স্থানীয় এক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাসহ ২ জন গুরুতর গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই সায়াহ্নিক হামলায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫ জন। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে কক্সবাজার জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রভাবশালী নেতা মহিউদ্দিন এবং তাঁর সহযোগী রনির নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আজ রোববার (২৪ ২৪ মে ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে অত্যন্ত ব্যস্ততম কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণের ভেতরে এই রোমহর্ষক ও দুর্ধর্ষ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পরপরই আদালত চত্বরে থাকা আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই প্রাণভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।
মামলার হাজিরা শেষে বের হতেই এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ
আদালত সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আজ সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার তাঁর ব্যক্তিগত বেশ কিছু সহযোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে একটি পুরনো মামলায় হাজিরা দিতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে যান। যথাসময়ে আদালতের এজলাসে হাজিরা প্রক্রিয়া শেষ করে বেলা ১১টার দিকে লিয়াকত আলী মেম্বার তাঁর দলবলসহ আদালত ভবন থেকে বের হয়ে চত্বরে আসেন।
ঠিক তখনই পূর্ব শত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে আদালত প্রাঙ্গণে ওত পেতে থাকা সশস্ত্র প্রতিপক্ষের একদল সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে আকস্মিক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় লিয়াকত মেম্বার অক্ষত থাকলেও তাঁর সাথে থাকা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মহিউদ্দিন ও রনি সরাসরি শরীরে গুলি লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাদের বাঁচাতে গিয়ে আরও ৫ জন গুরুতর আহত হন।
সদর হাসপাতালে চিৎকার: ৩ হামলাকারীকে অবরুদ্ধ করে আটক
প্রকাশ্য প্রাঙ্গণে গুলির শব্দে পুরো আদালত পাড়ায় এক থমথমে ও আতঙ্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পরই স্থানীয় আইনজীবী ও সাধারণ জনতা সাহসিকতার সাথে এগিয়ে এসে গুলিবিদ্ধ মহিউদ্দিন ও রনিসহ আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আহতদের শরীর থেকে গুলি বের করার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে আদালত চত্বরে দায়িত্বরত পুলিশ ও সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া করে পালানোর সময় ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ৩ জন সশস্ত্র হামলাকারীকে অবরুদ্ধ করে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ副 সুপার (অতিরিক্ত এসপি) অহিদুর রহমান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলি ও দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পাওয়ামাত্রই জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশাল ফোর্সসহ আদালত চত্বর ঘিরে ফেলে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আমরা এখন পর্যন্ত ৩ জনকে স্পট থেকে আটক করেছি। ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। বর্তমানে আদালত চত্বরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

