ময়মনসিংহে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ দুই দিন পর একটি পুকুরের কচুরিপানার ভেতর থেকে বিজয় বর্মণ (২৬) (প্রতিবেদনের কোথাও বিজন বর্মণ নামে উল্লেখিত) নামে এক যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত বিজয় পেশায় একটি ওষুধের দোকানের কর্মচারী ছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, নেশাজনিত কোনো গভীর বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ পুকুরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি এলাকার একটি পুকুর থেকে তাঁর গলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত বিজয় বর্মণ পাশ্ববর্তী মুক্তাগাছা উপজেলার বাসিন্দা এবং স্থানীয় সুপরিচিত মাছ ব্যবসায়ী হরিপদ বর্মণের ছোট ছেলে।
নিখোঁজের রাতের শেষ আড্ডা ও বন্ধুদের রহস্যময় ভূমিকা
পুলিশ ও স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে মুক্তাগাছা থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে আসেন বিজয়। এরপর তিনি তাঁর কিছু নিয়মিত ‘নেশাখুর’ বন্ধুদের সাথে ময়মনসিংহ শহরে যান। সেখান থেকে গভীর রাতে তীব্র নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পুনরায় নিজ এলাকায় ফিরে আসেন তিনি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বাড়ি ফেরার পরও তিনি স্থির ছিলেন না। রাত ১২টার দিকে আবারো স্থানীয় বন্ধুদের ডাকে সাড়া দিয়ে বাড়ির পাশে একটি ঘন জঙ্গলে আড্ডায় যোগ দিতে যান বিজয়। এরপর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি আর রাতে বাড়ি ফিরে আসেননি। গত শনিবার (২৩ মে) দিনভর পরিবারের লোকজন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও বিজয়ের কোনো সন্ধান পাননি।
পুকুরে ভাসছিল লাশ: ১ বছরের কন্যাসন্তানের কান্নায় ভারী বাতাস
শনিবার দিনভর নিখোঁজ থাকার পর আজ রবিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কচুরিপানার ভেতর একটি মানবদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিজয়ের পরিবারের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং কাপড় ও অবয়ব দেখে বিজয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নিহত বিজয়ের জ্যাঠাতো ভাই সুব্রত বর্মণ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “দুই ভাই ও এক বোনের ছোট সংসারে বিজয় ছিল সবার আদরের। ওর মাত্র এক বছর বয়সী একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তান রয়েছে। ও এভাবে একা একা পুকুরে ডুবে মারা যেতে পারে না। আমরা নিশ্চিত, তাকে নেশাখুর বন্ধুরা মিলে কোনো বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দিয়েছে। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব বন্ধুদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন: কোতোয়ালি থানা পুলিশ
পুকুরে লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি সুরতহাল টিম দ্রুত বেগুনবাড়ির ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহটি জল থেকে ডাঙায় তুলে আনে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য লাশ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগটি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে এটি হত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

